Spread the love


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু একজন দুনীর্তিবাজ ও নানা অপকর্মের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চেয়ারম্যান মিন্টু তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ইউনিয়নের নিরীহ ও অসহায় মানুষের ওপর স্টীম রোলার চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার আপন ভাতিজা ইলিয়াছ ও তার শ্যালক শিপন,রিপন গংদের দিয়ে সিএন্ডবি ঘাট এলাকাসহ আশপাশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে মিন্টু। এহেন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনা। এলাকায় মাদক ব্যবসায় রয়েছে তাদের নিজস্ব সিন্ডিকেট। ঘাট, হাটসহ ঐ এলাকার কোন ব্যবসায়ীই তাদের চাঁদাবাজি ও জুলূম থেকে নিস্তার পায়নি। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনা। প্রতিবাদ করলেই ঐ বাহিনীর হাতে নিগৃহীত ও নির্যাতিত হতে হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যবসায়ী। গত ২৯ মে ও ১১ জুন ডিক্রীরচর ইউনিয়নের নির্বাচিত সকল ইউপি মেম্বার মেহেদী হাসান মিন্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অসদাচরনের অভিযোগ এনে তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে। এতে মিন্টু চেয়ারম্যান সকল ইউপি মেম্বারদের উপর ক্ষিপ্ত হয় ও তার বাহিনী দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। মেম্বারদের শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুন আইনুদ্দিন মাতুব্বর কান্দি সরকারি স্কুল মাঠে মান্নান মেম্বারকে পেয়ে মিন্টু ও তার লাঠিয়াল বাহিনী দেশী অস্ত্র ও লাঠিসোঠা দিয়ে বর্বর নির্যাতন চালায় ও বেদম প্রহর করে তার হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়। এরই প্রেক্ষিতে মামলায় মিন্টুসহ ৯জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। মামলায় মিন্টু চেয়ারম্যানের ভাতিজা ইলিয়াছকে কোতয়ালী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। আরো জানা যায়, ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু ফরিদপুরের সাবেক আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত নেতা মোকাররম মিয়া বাবুর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করতো। মোকাররম বাবুর অনুকম্পা ও সহানুভূতি পাবার আশায় মিন্টু চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় পদ্মার মাছ, কোরবানীর ঈদে গরু ও বিভিন্ন ধরণের ফলফুল পাঠাতো। একজন প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী সাবেক আওয়ামীগের বহিস্কৃত নেতার একজন ঘনিষ্ঠ সহচর কিভাবে বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতির মত গুরুত্বপূর্ণ পদে কিভাবে থাকে সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠিত দলের সাথে মিন্টু চেয়ারম্যানের জড়িত থাকাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের কর্মী ও সমর্থকগণ। নানা ছলচাতুরী ও ফন্দিফিকির করে চেয়ারম্যানের পদটি বাগিয়ে নিয়ে চেয়ারম্যানের পদ ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ। তাই, এখনই তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা না করা গেলে ইউপি সদস্য সহ সকলের বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে মনে করে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। প্রসংগত, বর্তমানে মিন্টু চেয়ারম্যান তার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনারের কাছে সম্পত্তির হিসাবে ২লক্ষ টাকার মত নগদ হিসেব দেখিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে ১ বছর না যেতেই ৩২ লক্ষ টাকার গাড়ি এবং সিএন্ডঘাটের বিআইডাবিøউটিসিকে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা এজারা বাবদ জমা প্রদান করে। এতটাকা মিন্টু চেয়ারম্যান অল্প সময়ের মধ্যে কোথায় পেল তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। এবিষয়ে চেয়ারম্যান মিন্টুর সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেস্টা করা হলো তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


Spread the love