Spread the love

ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামে প্রবাসী সামসু চোকদার জীবনের নানা প্রতিকুলতা এবং টানাপোড়নে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রবাসে থেকেও প্রতিনিয়ত পারিবারের সদস্যদের প্রতারনা অবিশ্বাস এবং বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি অনেকটাই বাকরুদ্ব।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে সামসু চোকদার ১২ বছর পূর্বে উপজেলার খাড়াকান্দি গ্রামের হাবিজাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালই কাটছিল। কিন্ত সুখের সংসার এক সময় বিষাদে পরিনত হয়। সংসারের স্বচ্ছলতা এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনবাজি রেখে তরাই উৎরাই পেরিয়ে পাড়ি জমান সুদুর গ্রীসে। প্রতি মাসে ভাই ও স্ত্রীর নিকট পাঠাতেন বিরাট অংকের টাকা। কিন্ত সামসু চোকদারের বিশ্বাসকে জলাঞ্জলী দিয়ে ভালবাসা ও সরলতার সুযোগে স্ত্রী হাবিজা বেগম আপন ভাই নুর আলমের যোগসাজসে প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা-পয়সা দিয়ে ক্রয় করা জমি-জমা পর্যন্ত তারা হাতিয়ে নেয়। সামসু চোকদারের অনুপস্থিতিতে হাবিজা এবং ভাই নুর আলমের মধ্যে অর্থাৎ দেবর-ভাবীর মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কিন্ত তা সত্যেও প্রতিদিন সুকৌশলে হাবিজা এবং নুর আলম সহ সবাই তার সাথে স্বাভাবিকবাবেই মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। সে যখন প্রবাস থেকে দেশে আসার সিদ্বান্তের কথা বলেন তখনই তারা (নুর আলম-হাবিজা) চুড়ান্তভাবে ষড়যন্ত্র আটে। এক পর্যায়ে সামসু চোকদার বাড়ীতে আসার আগেই নাগিনীরুপি হাবিজা বেগম দু,সন্তানের কথা চিন্তা না করে পরকীয়ার টানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সুখের আশায় বিভোর হয়ে তারা অন্যত্র ঘর বাধে। বাড়ীতে এলে সামসু চোকদারের চোখে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। মাতৃ¯েœহ থেকে বঞ্চিত হওয়া ছোট অবুঝ দুই সন্তানের কষ্ট তাকে আরও বেশী পীড়া দেয়। । শিশু দুটির জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। সামসু চোকদার আক্ষেপ করে বলেন, নিজে না খেয়ে শরীরের দিকে না তাকিয়ে স্ত্রী-সন্তান,বাবা- মা ও ভাইয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জীবনের মূল্যবান সময় হারালাম। অথচ সুখের পায়রাই হারিয়ে গেছে। যাদের জন্য এত কিছু করলাম তারাই আমার সর্বস্ব নিয়ে সর্বশান্ত করেছে। তিনি জানান, ছোট ভাই নুর আলম ও স্ত্রী আমি বাড়ীতে আসার কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ীতে ফিরে আসে। শুরু হয় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়ন। ভগ্ন হৃদয়ে বাসা বাধে হতাশা,বঞ্চনা আর প্রতারনার গল্প। প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা-পয়সা দাবী করলে চরমভাবে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি জানান , বিশ্বাসঘাতকতার এমন এক পর্যায়ে পৌছায় যে সংঘবদ্বভাবে আমাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা করে তারা। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। শালিসে আমার প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা-পয়সা নেবার কথা অস্বীকার করে এবং জমাজমি ফেরৎ দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এমনকি জায়গা জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। তিনি আরও জানান স্বার্থের কাে ছ সবাই জিম্মি হয়ে পড়ে। প্রচুর টাকা-পয়সা নুর আলমের কাছে থাকায় সে টাকা-পয়সা দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আমার জীবন দুর্বীসহ করে তোলে। এমনকি আমার বোন জামাই উপজেলার উথুলী গ্রামের সামচুল মাতুব্বর নুর আলমের নিকট থেকে প্রচুর টাকা-পয়সা নিয়ে হাবিজা-নুরআলমের সাথে ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। বলতে গেলে আমার স্ত্রীকে পরকীয়ার জেরে হরন করেও ক্ষান্ত হয়নি। উল্টো পরিবারের সদস্যরাও আমার বিরুদ্বে অবস্থান নেয়। আমি নিরুপায় হয়ে ভগ্ন মন নিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।এদিকে সামসু চোকদার দেশে আসার কিছুদিন পর সুমি বেগম নামে জনৈক মহিলাকে পুনরায় বিয়ে করেন। পরিবারের সদস্যদের মতে বিয়ে করলেও ভাই নুরআলম এবং হাবিজা বেগম মিলে নববধু সুমি এবং সামসুকে জিম্মি করে ফেলে। সুিম বেগম জানান,সম্প্রতি পরিকল্পিতভাবে হাবিজা বেগম,নুর আলম,ননদজামাই সামসু মাতুব্বর সংঘবদ্বভাবে স্বামীর অনুপস্থিতিতে আমাকে বাড়ীছাড়া করার জন্য প্রচন্ড মারধোর করে এবং আমার ঘরের আসবাবপত্র ,টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। স্বামীর প্রবাসে থাকায় আমার নিরাপত্তাহীনতার সুযোগে গভীর রাতে টিনের বেড়া কেটে ভাড়াটে দুর্বৃত্তরা আমাকে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আুিম ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ করলে ভাঙ্গা থানার এ.এসআই মানিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন্। ঘটনার সত্যতা জানিয়ে তিনি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলা দায়েরের পর নুর আলম গংরা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে।তিনি জানান, বাধ্য হয়ে আমি নিরাপত্তার স্বার্থে পিতার বাড়ীতে বসবাস করছি। ঘটনাটি তদন্ত করতে সাংবাদিকদের একটি দল এলাকায় গেলে বিষয়টি সবার মুখে মুখে ফির্।ে এলাকার তৈয়ব আলী মাতুব্বর,জসিম খান,আইয়ুব আলী ফকির সহ একাধিক ব্যাক্তি আপন ভাই নুরআলম ও স্ত্রী হাবিজা বেগমের দ্বারা সামসু চোকদার প্রতারনার মাধ্যমে সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে একাধিক শালিস বৈঠকের কথা জানান। এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার এ.এস আই মানিক জানান,ঘটনাটির ব্যাপারে আমি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দিয়েছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাবিজা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।


Spread the love