Spread the love

সালথা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাহিরন নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মিজানুর রহমানের বিরুদ্বে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে টিসি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি সুপারের অপসারনের দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঐ মাদ্রাসার অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি, মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মাদ্রাসা সুপারের বিদায় চাই লেখা লিফলেট হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা অনশন করে। ভুক্তভুগী মাদ্রাসা ছাত্রী উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনয়নের কুমারপট্টি গ্রামের লুৎফার রহমান এর মেয়ে।
মাদ্রাসা ছাত্রীর মা মুক্তা শেখ এক লিখিত অভিযোগে বলেন, আমার মেয়ে ফারজানা আক্তার মাহিরন নেছা দাখিল মাদ্রাসায় ২০১৯ সনের দশম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ছিলো। সেই সুবাদে মাদ্রাসা সুপার আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অজুহাতে আসা যাওয়া করতো। শিক্ষক বলে আমরা তাকে যথেষ্ট আদর আপ্যায়নও করতাম। এক পর্যায়ে মাদ্রাসা সুপার মিজানুর রহমানের এক ভাতিজা পাশ্ববর্তী ছাগলদী গ্রামের আব্দুল জলিল তালুকদারের ছেলে মোঃ কামাল তালুকদারের সাথে আমার মেয়ে ফারজানা আক্তারের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পারিবারিক ভাবে আমরা মাদ্রাসা সুপারের মাধ্যমে বিবাহ দেই ঐ ছেলের সাথে। পরে পারিবারিক ভাবে বনিবনা না হওয়ায় অল্প দিনেই বিয়ে ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে আমার মেয়ে আবার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতে চাইলে আমরা তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় ভর্তি করি। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার আমাদের বাড়িতে আবার একদিন এসে বলে আপনার মেয়ের তো একবার বিয়ে হয়েছে এখন আর পড়ালেখা করে কি হবে। আমার সাথে বিয়ে দেন আমার গ্রামের বাড়িতে ওকে নিয়ে সংসার করবো। আমরা এবং আমার মেয়ে ফারজানা রাজি না হলে কয়েকদিন পর আমার মেয়েকে টিসি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। মাদ্রাসা ছাত্রী ফারজানা বলেন, তিনি আমার বাবার বয়সী কি করে তাকে বিয়ে করবো। পারিবারিক ভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আগে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে বার বার তার সাথে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলো। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার ক্ষমতা বলে আমাকে টিসি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে তার আগের দুটি স্ত্রী রয়েছে। কি করে এই মেয়ের বয়সী ছাত্রীকে বিয়ে করতে চায় সুপার। প্রতিহিংসার বশে এই শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিবিনি করতে চায়। আমরা এই সুপারের অপসারন চেয়ে বিচার দাবি করছি।
এব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি তার বিবাহ দেই নাই। কারন তার পরিপূর্ন বিয়ের বয়স হয়নি। আর টিসির ব্যাপারে বলেন, ঐ ছাত্রী ২০১৮ সালের দাখিল পরিক্ষার জন্য রেজিষ্টেশন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আর মাদ্রাসায় আসেনি। আমার এক শিক্ষক না বুঝে তাকে পূনরায় ভর্তি করেছে। সে বাল্যবিবাহে আবদ্ধ হয়েছে মাদ্রাসার নিয়ম ভঙ্গের কারনে তাকে আমি টিসি দিয়েছি। তাছাড়া সে এখন আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রী নয়।
এব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান (হামিদ) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এর পিছনে অনেক কাহিনী আছে মোবাইল ফোনে বলবেন না বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।


Spread the love