Spread the love


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান সড়ক ঘেষেঁ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় মহিলা আ’লীগের সভাপতি রওশনারা পারভীন(৩৮) বিরুদ্ধে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের বি.এস .ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ হাওলাদার(৫৫) এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত মহিলা নেত্রী গত ৯সেপ্টেম্বর বিরোধীয় ৫শতাংশ জমির উপর দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিবাদমান জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারী করে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রেখে আগামী ২৮অক্টোবর কোর্টে উভয় পক্ষের বক্তব্য পেশ করার নির্দেশ দেন। চরভদ্রাসন পিটিশন নং-৩৫৫/১৯।

কিন্ত উপজেলা মহিলা আ’লীগ নেত্রী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার থেকে পুনরায় দোকানঘর নির্মাণ কাজ করে চলেছেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি রওশানারা বলেন, আমার পিতা রতন মোল্যার নামে সরকার বাহাদুর অনেক আগে উক্ত জমি বন্দবস্তো দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আমাদের কাগজপত্র যাচাই করেছেন। পিতার নামে বন্দবস্তোকৃত জমিতে এতোদিন বিভিন্ন কারনে ঘর তোলা হয় নাই। বর্তমানে উক্ত জমি পতিত রাখা ঠিক হবে না বিধায় দোকানঘর নির্মান করছি বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, ১৪৪ ধারা মামলার বাদী উপজেলা সদরের বি.এস.ডাঙ্গী গ্রামের মৃত খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে ইউসুফ হাওলাদার জানান, কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উক্ত মহিলা নেত্রী ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বন্ধের দিন শুক্র ও শনিবার দোকানঘর নির্মাণের কাজ করে চলেছেন। বিরোধীয় জমিতে দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বার বার অবগত করার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেন নাই।

জানা যায়, উক্ত জমির এস.এ জরীপ ও দিয়ারা জরীপে রেকর্ডীয় মালিক উপজেলার বি.এস.ডাঙ্গী গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের নিকট থেকে ১৯৯৪ সালের ১৬ জুন তারিখে চরভদ্রাসন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৬৯২ নং খোষকবলা দলিলমূলে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন প্রতিপক্ষ ইউসুপ হাওলাদার। এসএ ১৬৪ নং মৌজা যাহা দিয়ারা ১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার ৭৯১ নং খতিয়ানের ১০১৪৯ নং দাগ হইতে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে প্রতিপক্ষ ইউসুফ হাওলাদার একটি টিনের ছাপড়া উঠিয়ে মটর পার্টসের ব্যবসা ও বাকী উন্মুক্ত জমির ওপর ইট বালুর ব্যবসা করে আসছিলেন। সম্প্রতী ওই উন্মুক্ত জায়গাটুকু জবর দখল করে উপজেলা মহিলা নেত্রী দোকানঘর নির্মান করে চলেছেন।

কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান নির্মানের ব্যাপারে জানতে চাইলে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ বলেন, আদালতের নির্দেশ পেয়ে আমরা উভয় পক্ষকে বিবাদমান জমিতে স্থিতিবস্থা বাজয় রাখার জন্য নোটিশ জারি করেছি। কিন্ত কেউ ঘর তুললে বাঁধা দেয়া পুলিশের কাজ নয়। শান্তি শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটলে সেটি দেখার দায়িত্ব পুলিশের বলে তিনি জানান।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা নাসরিন বলেন, কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর তোলার বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও স্যারের সাথে দ্রæত আলাপ করবো বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, আমি আদালতের নোটিশ পাই নাই। আমি ষ্টেশনে না থাকায় বিষয়টি দেখতে ও বুঝতে পারছিনা। তবে শুনেছি রওশনারা দোকানঘর তুলছেন। খবর শুনে আমি আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি বলে তিনি জানান।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উক্ত মহিলা নেত্রী বিরোধীয় জমিতে কয়েকটি ভারী গাছ কেটে ২৫/৩০ জন লেবার ও মিস্ত্রি লাগিয়ে দ্রæত গতিতে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ করে চলেছেন।


Spread the love