আজ মঙ্গলবার, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং,সকাল ১১:২০

বোয়ালমারীতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ মিমাংসার চেষ্টা অবশেষে থানায় মামলা


বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের পরমেশ্বর্দী গ্রামে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪.০৯.১৯) রাতে ওই ছাত্রীর বড় ভাই বাদী হয়ে ধর্ষক পরমেশ্বরর্দী গ্রামের কাওসার মোল্যা ছেলে মাহির হাসান বরকতসহ (২৪) তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলা নম্বর ১২। মাহির পরমেশ্বরর্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরির হিসেবে কর্মরত আছে। প্রথমে বিষয়টি গ্রামের মাতুব্বররা মিমাংসার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি আপোষের চেষ্টার অভিযোগে একই গ্রামের মাতুব্বর আক্তার হাফিজ (৬০), ও আইয়ুব খন্দকারকে (৪৫) আসামি করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বার বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী জানায়, ঘটনার দিন তার মা বাবা পাশের সালথা থানার সাধুহাটি গ্রামের বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এই সুযোগে মাহির হাসান বরকত (২৪) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের বাড়িতে এসে তার বোনকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী চুন্নু কাজীর লিচু বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। সন্ধ্যার পরে বাড়িতে এসে তার বোনকে না পেয়ে খুজতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার বোন কাদা মাখা শরীরে বাড়িতে ফিরে আসে। তখন সে বিষয়টি জানতে পারে। এ নিয়ে থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় মাতুব্বর আইয়ুব খন্দকার ও আক্তার হাফেজ ধর্ষণের ঘটনা গ্রাম্য সালিশে মিমাংসার কথা বলে কালক্ষেপন করে। অবশেষে বিচার না পেয়ে ওই দুই মাতবরসহ ধর্ষককে আসামি করে মামলা করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা পারভীন মোবাইলে বলেন, গত ২১ তারিখ শনিবার সভাপতি সিরাজ মুন্সি তাকে মোবাইলের মাধ্যমে এ ঘটনা জানায়। পরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে তার সাথে দেখা করতে গেলে ছাত্রীর মা আমাকে তার মেয়ে ফুফু বাড়ি বেড়াতে গেছে বলে জানায়। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। মাহির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় স্কুলে কর্মরত মাহির হাসান বরকত প্রধান শিক্ষকের মোবাইলের মাধ্যমে জানায় তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। স্কুলের সভাপতি সিরাজ মুন্সির ভাগ্নে আরিফের ওই স্কুলে নৈশ প্রহরীর চাকরি না হওয়ায় সে এ সব ষড়যন্ত্র করছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মুন্সি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দুইদিন আগে জানতে পারি। ঘটনা সত্য। তার বিরুদ্ধে যে কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা। আক্তার হাফিজ মিমাংসা করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের ফরেনসিক পরিক্ষা শেষে ফরিদপুর ৭নং আমলী আদালতে ২২ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুর রহমান বলেন, থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আসামিদেরকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

     আরো পড়ুন