আজ রবিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং,দুপুর ১:২২

নিত্য ময়লা-আবর্জনা গায়ে মাখাই যাদের পেশা

শোভন এহসানঃ ‘ওই কামাল ডাস্টবিনে দেখতো,পরিষ্কার অইছে কিনা।’ওস্তাদের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কিশোর কামাল ডাস্টবিনের অবশিষ্ট ময়লা ঝাঁকায় তুলে ফেললো।তারপর বললো ‘ওস্তাদ’ ডাস্টবিন ক্লিয়ার’।ডাস্টবিন থেকে ওঠে আসা কামালের হাত-পা ময়লায় ভরা।ডাস্টবিন পরিষ্কার শেষে জামাতে হাত মুছে বিড়িতে সুখটান দেন কামাল।শুক্রবার ছুটির দিন সকাল ৯ টার দিকে ফরিদপুর শহরের আলাউদ্দিন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এমন কথোপকথনের দৃশ্য চোখে পড়ে।শুধু কামাল একা নেন,তার মতো আরো তিন থেকে চারজনকে ডাস্টবিন থেকে ময়লা তুলতে দেখা গেলো।এসময় ময়লার উৎকট গন্ধে পরচারি,রাস্তায় রিকশা,মোটর সাইকেলের লোকজনকে রুমালে মুখ চেপে পথ চলতে দেখা যায়।কামাল বা তার সহকর্মীরা আর দশটা পেশার চেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী পেশার সাথে জড়িত।নিত্য দিন ময়লা আর্বজনা পরিষ্কার করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।
দৈনিক আজকের সারাদেশকে জানান,গত ৪-৫ বছর যাবত তিনি এ পেশার সাথে জড়িত।শুরুর দিনগুলোয় ড্রেনে নেমে ময়লা আর্বজনা পরিষ্কার করতে সারা শরীর ঘিনঘিন করতো।কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই কাজটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায়।পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের ওস্তাদ শাজাহান।এক সময় নিজেও ডাস্টবিনে নেমে ময়লা আর্বজনা তোলার কাজ করতেন।বছর পনেরোর পর এখন নিজে কাজ ছেড়ে দিলেও লোকজন দিয়ে কাজ করান।
শাজাহান জানান,এ পেশার সাথে জড়িতদের মানুষ ভালো চোখে দেখে না।অথচ শহরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে,পরিবেশ ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখি আমরা।

     আরো পড়ুন