Spread the love

আ. রাজ্জাক শেখ: রূপসায় মাদ্রাসার ছাত্র আদনান আলিফ ওরফে বাবু (৮) হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা জাকির হোসেন ও ওসি তদন্ত ইব্রাহিম সোহেলের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাধাল গ্রামের সোখর শেখের ছেলে সোহরাব হোসেন কালু (১৯),নুরু সরদারের ছেলে আবদুল্লাহ (১৯) ও সাহিদুল মোল্লার ছেলে সুমন(১১)।
তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে শনিবার দুপুরে খুলনার ১ম শ্রেনীর ম্যজিস্ট্রেড নয়ন বিশ্বাশের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দি তারা বলেন, নিহত বাবুর মেঝ বোন শান্তার সাথে আসামী

আবদুল্লাহ ও কালু মাঝে মধ্যে স্কুলে যাবার পথে কথা হতো । নিহত শিশু তাদের কথা তার পরিবারকে বলে দিত। যা নিয়ে অনেক ঝগড়া হত। এ রাগে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে শিশু বাবুকে মারপিট করার সিন্ধান্ত নেয়। কথা অনুযায়ী গত ৩১ অক্টোবের সন্ধ্যার আগে সুমনকে দিয়ে বাবুকে তারা ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে বলি। সুুমন বাবুকে পেপসি খেতে খেতে ঐখানে নিয়ে আসে।
তারা ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে বাবুকে দেখে চড় ও থাপ্পড় মারে। পরে সে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় আমরা লাথি ও মারপিট করতে থাকি। কিন্তু সে নড়াচড়া না করায় আমরা মনে করি বাবু মারা গিয়েছে। সেই মোতাবেক আবদুল্লাহ বাড়ি থেকে কোদাল ও দা নিয়ে আসে। তারপর আমরা ৩জন মিলে নিহত বাবুকে নাজিমের জমিতে গর্ত করে মাটি চাপা দেয়। পরবর্তীতে আমরা বাড়িতে চলে আসি। শিশু সুমনকেও আমরা হত্যার হুমকি দিয়। কারনে সে যাতে কাউকে এঘটনা না বলে। হত্যার কাজে ব্যবহারিত কোদালটি পাশ্ববর্তী জজবিল খালের মধ্যে ফেলে দিয়। পুলিশ কোদালটি উদ্বার করেছে।

অপর দিকে নিহত শিশুর পরিবার দাবি করছে তার ছেলেকে মুদি দোকানদার সেলিম মোড়লের সহযোগিতায় হত্যা করা হয়েছে। কারনে সেলিমের সাথে ৪/৫ মাস আগে শিশু বাবুকে নিয়ে বেরোধ হয়। সেখানে সেলিম বলেছিল ছেলেকে কতদিন তোদের কাছে থাকে তা দেখে নিব। এমনকি সেলিম প্রায় বাবুকে খাবার দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিয়ে যেত। সেলিমের নামে হত্যা সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তার নামে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সেলিম প্রভাবশালী দলের সদস্য হওযায় টাকার লোভ দেখিয়ে আসামীদের কে দিয়ে কাজটি করিয়েছে। নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর জানান, হত্যার আগের দিন দুপুরে শুড়িডাঙ্গা খালের মাথায় আমার ছেলেকে ৪/৫ জন নিয়ে যায়। সেখানে আমার ভাই তাদের দেখে ফেলার কারনে তার কোন ক্ষতি করতে পারে নাই। এলাকাবাসি জানায় আসামীরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা সেলিমের মুদি দোকানে রাত-দিন আড্ডা দেয়। মাঝে মধ্যে সেলিম তাদের টাকাও দেয়। এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা বাদি হয়ে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন । যার নং-৪।

উল্লেখ্য গত ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় আদনান সানি আলিফ@ বাবু(৮) কে হত্যা করে পরিত্যক্ত জায়গায় মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। মাগরিবের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও শিশুটি বাড়িতে না আসায় খুজতে থাকে পরিবার। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পাওয়ায় থানায় ও অবহিত করা হয়।এক পর্যায়ে রাত প্রায় ১২ টার দিকে বাড়ির অদূরে খালের পাড়ে মাটির নিচ থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সেলিমসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। পরে সেলিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাবু শ্রীফলতলা ইউনিয়নের বাদাল গ্রামের রাজ মিস্ত্রী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সরদার ইব্রাহিম সোহেল বলেন, মাটির নিচে পুতে রাখা অবস্থায় শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত যুবকদের আটক করা হয়। তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রধান করেছেন। এছাড়া যদি কেউ হত্যার সাথে জড়িত থাকে তাকেও আটক করা হবে।


Spread the love