আজ বুধবার, ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং,দুপুর ১:৪৩

ফরিদপুরে এবার রিকশা চালক ও ভিক্ষুকদের নিয়ে চাইনিজ খেলেন প্রতিমাসে ভালো কাজ করা সেই আলোকিত শিক্ষক নূরুল ইসলাম

মাহবুব হোসেন পিয়ালঃ প্রতিমাসে সমাজসেবামূলক একটি ভালো কাজ করবেন এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে রিক্সা চালক ও ভিক্ষুক মিলে অর্ধশত ব্যাক্তিকে দুপুরে চাইনিজ খাইয়েছেন ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারি শিক্ষক নূরুল ইসলাম (৪৩)।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের ওটু চাইনিজ রেস্তরায় ওই ব্যাক্তিদের নিয়ে একত্রে দুপুরের খাবার খান ওই শিক্ষক এবং তার পাচঁ শিক্ষার্থী অরিন্দম ঘোষ, হাসিবুর রহমান, লাহিন মুনকার, ফারহাতুল ইসলাম, সঞ্জয় মুখার্জি।

খাবারের আইটেম হিসেবে ছিল চিকেন ফ্রাই, ফ্রাই্ড রাইচ, ভেজিটেবল ও কোমল পানীয়।

শিক্ষক নূরুল ইসলাম ফরিদপুর শহরের কমলাপুর লালের মোড় এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

নূরুল ইসলাম জানান, অনেক দিনের স্বপ্ন সমাজের জন্য কিছু করা। প্রতিমাসে অন্তত একটি ভালো কাজ নিজের অর্থায়নে আমি করতে চাই। এ লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এর আগে তিনি রিক্সা চালকদের মধ্যে সকালের নাস্তা বিতরণ করেছেন, দুঃস্তদের মাঝে সেমাই, চিনি ও গুড়া দুধ বিতরণ করেছেন, এক বৃদ্ধার ঈদের যাবতীয় খরচ বহন করেছেন, শহরে রোপন করেছেন ২০টি কৃষ্ণচ‚ড়া ও রাধাচ‚ড়ার চাড়া এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় রোপন করেছেন ১ হাজার ১শতটি তালের বীজ।

তিনি বলেন, প্রতিমাসে একটি করে ভালো কাজ করবেন। তা হতে পারে গাছ রোপন, দরিদ্র কোন শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা করা, অসহায় দুঃস্ত নারীর পাশে দাঁড়ানো।

অভিজাত রেস্তরায় বসে চাইনিজ কেতে পেরে বেজায় খুশী ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুর এলাকার বাসিন্দা রিক্সা চালক মো. জয়নুদ্দীন  (৫৫)। আবেগ আপ্লুত কন্ঠে তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। চাইনিজ রেস্তরায় যাত্রী নিয়ে আসি, পাশ দিয়ে যাই কিন্ত কোনদিন চাইনিজ খাইনি বা চাইনিজ হোটেলে ঢুকার সাহসই পাইনি। আজ চাইনিজ খেয়ে খুব ভালো লাগছে।

ভিক্ষাবৃতি করেন শহরের গুহল²ীর মহল্লার বাসিন্দা  হাজেরা বিবি  (৫২) বলেন, চাইনিজের কথা মানুষের মুখেই এতোদিন শুনেছি। কখনও খাওয়া হয়নি। আজ খেলাম। বুঝলাম চাইজ কারে বলে। যে আমাগো চাইনিজ খাবার খাওয়ালো তার জন্য অফুরন্ত দোয়া রইলো। অন্ধ আব্দুর রাজ্জাক (৫০)ফরিদপুর শহরে দীর্ঘদিন ভিক্ষাবৃতি করে চলেন, তাকে চেনেন না এমন লোক শহরে কমই আছে। তিনি চাইনিজ খাবার শেষে সকলকে নিয়ে এক লম্বা মোনাজাত ধরে বললেন,আল্লাহ যে শিক্ষক আমাদের মতো অসহায় দুস্থ দের কে নিয়ে আজ চাইনিজ হোটেলে যতœ করে খাওয়ালেন তার সব বালা মুসিবত দুর করে দাও ,সুখ আর শান্তিতে ভরিয়ে দাও তার সংসার আর কর্মময় জীবন। 

     আরো পড়ুন