Spread the love


চরভদ্রাসন প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে শাক তোলা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে
গুরত্বর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শেফালীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা চলছে বলে তার স্বজনরা জানান।
গত বুধবার (২৭নভেম্বর) বিকালে উপজেলার গাজিরটেক ইউনয়নের চরঅমরাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজিরটেক ইউনয়নের চরঅমরাপুর গ্রামে নজু মোল্যার মেয়ে(৩২) শেফালী বাড়ির পাশে তাদের বরগা দেয়া জমিতে একই গ্রামের রাশেদ বেপারী, মমিন বেপারী, রহিমা ও তানিকে শাক তুলতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এসময় রাশেদ বেপারী, মমিন বেপারী, রহিমা ও তানি শেফালীকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মেরে নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলেন। এসময় বোনকে বাচাঁতে তার ভাই আবুল মোল্যা এগিয়ে আসলে, তাকেও তারা কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মেরে নিলা-ফুলা জখম করে। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চরভদ্রাসন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সরেজমিনে শুক্রবার বিকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ওয়ার্ডের বেডে নাকে বেন্ডেজ নিয়ে এবং তার ভাই রাছেল হাতের জখম নিয়ে পুরুষ ওয়াডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শেফালীর স্বজনরা জানান, ক্ষেত থেকে শাক তুলতে বাধা দিতে গিলে একই গ্রামের প্রভাবশালী রাশেদ বেপারী ও তার পরিবারের লোকজনেরা শেফালীকে একা পেয়ে বেধড়ক মারপিট করার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এঘটনায় আমরা চরভদ্রাসন থানায় শেফালীর মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত রাশেদ বেপারী, মমিন বেপারী, রহিমা ও তানির বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে, থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করে চলেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তারা বলেন, আমরা থানায় মামলা করতে চাইলে ওসি স্যার বিষয়টা আপোশ মিমাংসা করার কথা বলেন। পরে এঘটনায় থানায় আমাদের একটি লিখিত অভিযোগ নিয়েছে । কিন্তু কোনো মামলা নেয় নাই।
অপরদিকে, মুঠোফোনে এ ঘটনা জানতে চেয়ে রাশেদ বেপারীকে ফোন দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে কোনো কথা না বলেই ফোনটি কেটে দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের সহকারী চিকিৎসক মো. জাহিদ হোসেন জানান, এঘটনায় দুই পক্ষের চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাীন রয়েছে। কারো অবস্থাই তেমন কোনো গুরুত্বর নয়। চিকিৎসা নিলে এখানেই তাদের সুস্থ্য হওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
চরভদ্রাসন থানার এস.আই. ছাত্তার বলেন, এঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয় নাই। ওসি স্যার আগামীকাল এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেবে। তিনি আরো জানান, তারা এবিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ করছে। উক্ত অভিযোগের আলোকে আমরা ঘটনাস্থল তদন্ত করে দেখেছি। উভয়পক্ষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুই পক্ষেরই ৩২৩এ ইনজুরি হয়েছে। মামলা যদি নিতে হয় দুই পক্ষেরই মামলা নিতে হয়। ওসি স্যারের কাছে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। স্যারই জানে বিষয়টি কি করবে।
এব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চেয়ে চরভদ্রাসন থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকতা মো. হারুন আর রশিদকে ফোন দিলে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি।


Spread the love