আজ সোমবার, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং,রাত ৩:৩০

ফরিদপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে বাড়ছে রোগির চাপ


শোভন এহসানঃ এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি দিন দিন আস্থা বাড়ছে রোগীদের।এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা ব্যয় কমে হওয়া এবং ঔষুধের কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া না থাকায় পুরাতন,জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়ের রীতিমতো মানুষ এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার শরণাপন্ন হচ্ছেন।
বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র শ্রেনীর মানুষেরা হোমিও চিকিৎসার প্রতি ঝুঁকছেন বেশি।টিউমার,বাতব্যাথা,জন্ডিস,চর্মরোগ,হার্নিয়া,শ্বাসকষ্ট,আঁচিল,মেয়েদের মাসিকের সমস্যা ও যৌন সমস্যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ভালো উপকার পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগি।লক্ষ্য করা যায়,হাসপাতালের বর্হিবিভাগের বেশির ভাগ রোগি এসব রোগে আক্রান্ত।
একটি বেসরকারী গবেষনার তথ্য মতে,দেশের প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
ফরিদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা বিকাশের লক্ষ্যে বর্হিবিভাগ সেবা চালু সহ একজন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন।চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে ঔষধ।
ফরিদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে লাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোগীরা।জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন তারা।রোগিদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে আসা ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার ইমান আলি (২২) জানান,”দীর্ঘ দিন আমি পুরাতন আমাশয়ে ভুগছি।গত দেড় মাস ধরে ফরিদপুর হোমিওপ্যাথি হাসপাতালের বর্হিবিভাগে এসে হোমিও চিকিৎসা নিচ্ছি।এখন আমি অনেকটাই সুস্থ।”
মাদারিপুর জেলা থেকে আসা গুলসানআরা জানান,তার ছেলে মুজাহিদ।বয়স তিন বছর।হার্নিয়ায় আক্রান্ত অনেকদিন ধরে।২ মাস বর্হিবিভাগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে মুজাহিদ আরোগ্য লাভ করেছেন।এখন তার মেয়েকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসছেন তিনি।
ফরিদপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান জানান,হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।চিকিৎসা ব্যয়ও খুব কম।স্বল্প আয়ের মানুষেরা সহজেই এই চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন,”এ চিকিৎসা পদ্ধতির সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে অনন্ত প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং হাসপাতাল গুলোতে হোমিও ঔষুধের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন,ফরিদপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বর্হিবিভাগের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।

     আরো পড়ুন