Spread the love


ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের দুয়াইর গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের মেয়ে চম্পা রানী কর্মকার(২২)কে হত্যার অভিযুক্ত পাষন্ড স্বামী অনুপ কর্মকারের উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন তার পরিবার।
মা দুর্গারানী দাস মেয়ে চম্পারানীকে হারিয়ে বাকরুদ্ব। সারাক্ষন শুধু মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে আহাজারি করছেন তিনি। চম্পার কথা বলতেই দু,চোখ তার অশ্রæস্বজল হয়ে উঠে। তিনি জানান,মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করত।স্বামীর মারধোর ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচারে মাঝে মাঝেই সে বাবার বাড়িতে চলে আসত। আবার শত কষ্টের মধ্যেও স্বামী ভাল হবে এই আশায় বুক বেধে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যেত। কিন্ত আগের মতই চলত তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা তাকে চলে আসার জন্য বাবরার বলতাম। একমাত্র সন্তান ও ধর্মীয় শাস্ত্রের কথা মনে করে স্বামীর বাড়িতেই কাটিয়ে দিতে চেয়েছিল বাকী জীবন। কিন্ত বিধি বাম! অবশেষে সে চলে এল বাবার বাড়িতে। তবে জীবিত নয়,লাশ হয়ে। এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জানান,গত ৮ জানুয়ারী-২০২০ইং স্বামী অনুপ কর্মকার ও তার পরিবার তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজায়। জানা গেছে,৯ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী জেলার সদরপুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামের অনিল কর্মকারের ছেলে অনুপ কর্মকারের সাথে চম্পা রানী কর্মকারের বিবাহ হয়।কিন্ত বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী অনুপ কর্মকারের আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। যৌতুকলোভী স্বামী প্রায়ই বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার চম্পাকে চাপ প্রয়োগ করত। সংসারিক কোন কাজ-কর্ম না করে প্রায় সময়ই মাদকাসক্ত এবং জুয়া খেলায় মেতে থাকত।জুয়ায় হেরে গেলে আবার যৌতুকের টাকার জন্য চম্পার উপর নেমে আসত নানামুখী অত্যাচার। এ নিয়ে কয়েকবার এলাকায় সালিশ বৈঠক হলেও স্বামী অনুপ কর্মকার কোন কর্মপাত করেনি। এদিকে তাদের ৯ বছর দাম্পত্য জীবনে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহন করে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সহ্য করে যায় হাজারও কষ্ট। কিন্ত স্বামী অনুপ পূর্বের মতই শারীরিক ও মানসিকভাবে চম্পাকে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।গত ৮ জানুয়ারী রাত ৩ টার দিকে মোবাইল ফোনে জনৈক প্রতিবেশী আমাদের জানায় যে, চম্পাকে হত্যার পর লাশ একটি সফেদা ফল গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।আমরা গিয়ে দেখি চম্পার মৃতদেহটি দু,পা মাটির সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান,রাতে জুয়া খেলায় হেরে চম্পাকে হত্যার পর আতœহত্যার নাটক সাজায়। চম্পার বাবা মনোরঞ্জন দাশ জানান,তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্ত প্রভাবশালীদের চাপে হত্যাকান্ডের সাথে শ্বশুরবাড়ির বেশ কয়েকজন জড়িত থাকলেও শুধুমাত্র স্বামী অনুপ কর্মকারকে আসামী করা হয়েছে। এতে তিনি মেয়ে হত্যার বিচার নিয়ে সন্দিহান। চম্পার ভাইয়ের স্ত্রী স্বরসতী রানী দাস জানান,তার ননদকে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যাচার করে আসছিল। এরই এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি। প্রতিবেশী গোবিন্দ কুন্ড,ডাঃ অজিত দাসসহ প্রতিবেশীরা মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নানা অত্যাচারের কথা জানান এবং স্বামী অনুপ কর্মকারের জুয়াখেলা,ইয়াবা সেবনসহ নানা কুকর্মের কথা বর্ননা করেন। স্থানীয় ইউ,পি সদস্য ফজলুর রহমান কাঞ্চন বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি চম্পাকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে,যেটি ছিল সাজানো নাটক।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান,অভিযোগের পর এজাহারভুক্ত আসামী অনুপ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


Spread the love