Spread the love

বি এম রাকিব হাসান: বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর মোংলা বন্দরে ৭ দশমিক ১৭ ভাগ জাহাজ আগমন বেড়েছে। আর ৮ দশমিক ৪১ ভাগ জাহাজ নির্গমন বেড়েছে। এ মাসের তুলনামূলক হিসেব অনুযায়ী ৯ দশমিক ০৮ ভাগ রাজস্ব আয় বেড়েছে। রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৭ ভাগ। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের চেয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মুনাফা ৭ দশমিক ৪৩ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।
মোংলা বন্দরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বাজেট) মোঃ রুমান হাওলাদার সাক্ষরিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের ডিসেম্বর ১৯ মাসের আয় ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত সার (প্রভিশনাল) প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচ্য ৬ মাসে মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আগমন বেড়েছে ৩২টি। যা ৭ দশমিক ১৭ ভাগ বৃদ্ধি। আর বিদেশি জাহাজ নির্গমন বেড়েছে ২৮টি। যা ৬ দশমিক ৪১ ভাগ বৃদ্ধি। কার্গো/পণ্য ওঠানামা বেড়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। যা ৪ দশমিক ৯৮ ভাগ বৃদ্ধি। কন্টেইনার বেড়েছে ২৩৭১টি। যা ৭ দশমিক ৪৯ ভাগ বৃদ্ধি। রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। যা ৯ দশমিক ০৮ ভাগ বৃদ্ধি। আর রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে ১৫ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। যা ১৭ দশমিক ২৭ ভাগ বৃদ্ধি।
মোংলা বন্দরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বাজেট) মোঃ রুমান হাওলাদার জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন হয় ৪৭৮টি, নির্গমন হয় ৪৬৫টি, পণ্য ওঠানামা করে ৫৭ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ব্যবহার হয় ৩৪০৩৯টি, রাজস্ব আয় হয় ১৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা, রাজস্ব ব্যয় হয় ১০২ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৬১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন ছিলো ৪৪৬টি, নির্গমন ছিলো ৪৩৭টি, পণ্য ওঠানামা ছিলো ৫৪ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ছিলো ৩১৬৬৮টি, রাজস্ব আয় ছিলো ১৫০ কোটি ১৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, রাজস্ব ব্যয় ছিলো ৮৭ কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিলো ৬২ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তিনি জানান, ডিসেম্বর ১৮ এর চেয়ে ডিসেম্বর ১৯ এ জাহাজ আগমন বাড়ে ৭টি (যা ৮ দশমিক ৫৪ ভাগ বেশি), নির্গমন বাড়ে ১৬টি (যা ২০ ভাগ বেশি), পণ্য ওঠা বেশি হয় ২ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন (যা ২১ দশমিক ০৬ ভাগ বেশি), কন্টেইনার বাড়ে ১৩৭৫টি (যা ২৮ দশমিক ৯৭ ভাগ বেশি), রাজস্ব আয় বাড়ে ১ কোটি ২০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা (যা ৪ দশমিক ১০ ভাগ বেশি), রাজস্ব ব্যয় বাড়ে ২ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা (যা ১৪ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি)। রাজস্ব উদ্বৃত্ত বাড়ে ১ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা (যা ৭ দশমিক ৪৩ ভাগ বেশি)। তিনি জানান, ডিসেম্বর’১৯ এ জাহাজ আগমন ছিলো ৮৯টি, নির্গমন ছিলো ৯৬টি, পণ্য ওঠানামা ছিলো ১২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ছিলো ৬১২২টি, রাজস্ব আয় ছিলো ৩০ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ছিলো ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিলো ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ডিসেম্বর’১৮ তে জাহাজ আগমন ছিলো ৮২টি, নির্গমন ছিলো ৮০টি, পণ্য ওঠানামা ছিলো ১০ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ছিলো ৪৭৪৭টি, রাজস্ব আয় ছিলো ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ছিলো ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিলো ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, মোংলা বন্দরে জুলাই’১৯ এ জাহাজ আগমন ছিলো ৩শটি, নির্গমন ছিলো ২৯০টি, পণ্য ওঠানামা ছিলো ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ছিলো ২২৯৬৫টি, রাজস্ব আয় ছিলো ১০৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ছিলো ৬৯ কোটি ২৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিলো ৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। জুলাই’১৮ তে জাহাজ আগমন ছিলো ২৭৩টি, নির্গমন ছিলো ২৭০টি, পণ্য ওঠানামা ছিলো ৩০ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, কন্টেইনার ছিলো ২০২৭৩টি, রাজস্ব আয় ছিলো ৮৯ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ছিলো ৫৮ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিলো ৩১ কোটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এক দশক আগেও ব্যয়ভার বহনে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হতো কর্তৃপক্ষকে। ২০০৮ সাল থেকে এ বন্দরে গাড়ি, খাদ্যশস্য, সার ও কিংকার আমদানি এবং হিমায়িত পণ্য রপ্তানি হওয়ার কারণে লোকসান কাটিয়ে বর্তমানে বন্দরটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বন্দরে জাহাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের কাজও বেড়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪১৬টি, আয় হয় ১৭০ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাহাজ আসে ৪৮২টি, আয় হয় ১৯৬ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাহাজ আসে ৬২৩টি, আয় হয় ২২৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাহাজ আসে ৭৮৪টি, আয় হয় ২৭৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাহাজ আসে ৯১২টি, আয় হয় ৩২৯ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
মোংলা বন্দরের চীফ প্ল্যানিং অফিসার জহিরুল হক বলেন, পুরনো অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে ডিসেম্বর মাসে এসে ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে ২০১৮ এর ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১৯ এর ডিসেম্বরে নীট মুনাফা সামান্য হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দরের কার্যক্রম ও অগ্রগতি ইতিবাচক অবস্থানেই রয়েছে। অর্থবছর শেষে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোংলা বন্দর এখন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কোনো দেশই একটি বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। তাই দেশের স্বার্থেই মোংলা বন্দরের গতিশীলতা বাড়ছে। নেপাল ভারতসহ অন্যন্য দেশের আমদানি রপ্তানিতে মোংলা বন্দরের প্রাধান্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব ১৬০-১৭০ কিলোমিটার। আর পায়রা বন্দর রয়েছে ২৭০ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম বন্দর রয়েছে ২৯০ কিলোমিটার দূরত্বে। তাই দূরত্বের দিক থেকে মোংলা বন্দর প্রধান্য পাচ্ছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে মোংলা বন্দরের ইনার বার ড্রেজিংয়ের জন্য ৭৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পটি ২০২২ সালে সম্পন্ন হবে। এ ড্রেজিং সম্পন্ন হলে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ সরাসরি বন্দর জেটিতে অবস্থান নিতে পারবে। যা বন্দরের গতিশীলতাকে আরও বৃদ্ধি করবে। আর এ কাজটি নির্বিঘœ করতে ৪টি জেটির কাজ চলমান রয়েছে। যা ২০২১ সালে সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বন্দরকে ঘিরে সরকারের নানা পরিকল্পনার কারণে এ বন্দর ক্রমেই গতিশীল হচ্ছে। বন্দর উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে মোংলা বন্দরের চিত্র পাল্টে যাবে।


Spread the love