Spread the love

বি এম রাকিব হাসানঃ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উদ্যোগে নগরীর খালিশপুর চরেরহাটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ‘আশার আলো স্কুল’ এর শিক্ষা কার্যক্রম চালু হচ্ছে চলতি মাসে। এর আগে ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর উদ্যোগে আশার আলো স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় স্কুলটি করা হয়েছে খুলনায়। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগসহ কাসরুম প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তিও শুরু হয়েছে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে আশোর আলো স্কুলটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুল। খুলনার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নির্ভরতার প্রথম ঠিকানা হবে স্কুলটি, এমনই মনে করেন খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্কুলটিতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা ধরনের শারীরিক চর্চা, মানষিক বিকাশে সহযোগিতা, ফিজিওথেরাপী, চিকিৎসা এবং মায়েদের জন্য মোটিভেশন কাসের ব্যবস্থা থাকছে। প্রাথমিকভাবে স্কুলে ফিজিক্যাল ডিজএ্যাবিলিটি, অটিজম এবং সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভর্তি করা হবে। খুলনা বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।
সরেজমিনে নগরীর খালিশপুর তিতুমীরের মধ্যে অবস্থিত ‘আশার আলো স্কুল’ পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী করে স্কুলটির সিঁড়ি, কাস রুম, খেলার মাঠ ও টয়লেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিভাবকরা ‘গার্ডিয়ান রুম’ এ বসেই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের কার্যক্রম দেখতে পারবেন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার গরম ও ঠান্ডা করার জন্য রয়েছে ব্যবস্থা। ‘স্পেশাল রুম’ এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষকদের সহযোগিতায় গান ও কার্টুন আঁকবে, ‘সেনসরি কর্নার’ এ থাকবে পানি, বালু, পাথর, মাটিসহ বিভিন্ন উপাদান। যার ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনটা কোন উপাদান সেটা অনুভব করতে পারবে। রয়েছে সাইকোথেরাপীরও ব্যবস্থা। সপ্তাহের পাঁচ দিন স্কুলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাইকোলজিস্ট এবং দুইদিন চাইল্ড স্পেশালিস্ট থাকবেন।
গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ২০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে মার্চ মাসে ইন্টারকনভেনশনাল কিনিক চালু হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে কাস ওয়ানে ফিজিক্যাল ডিজএ্যবিলিটি, কাস টুতে অটিজম এবং কাস থ্রিতে সেরিব্রাল পালসি’র কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে পরবর্তীতে কাস এবং শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ‘আশার আলো স্কুল’ এর প্রিন্সিপাল ইঃ লেঃ কমান্ডার কে এম মারুফ হোসেন বিএন জানান, তিতুমীরের দক্ষিণ পাশে এবং ভৈরব নদীর তীর ঘেঁষে ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্কুলের জন্য দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। স্কুলের নিবন্ধন করা হয়েছে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি, ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ঐ বছরের ১৫ এপ্রিল। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের শেষে স্কুলের একতলা ভবনে ৯ হাজার ৬শ’ স্কয়ার ফুটের কাজ শেষ হয়। ভবনটি ৬ তলা ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভবনে ভোকেশনালের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনায় নৌবাহিনী এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করছে। প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৬ বছরের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ইনিশিয়াল স্ক্যানিং করা হবে। এরপর শিশুকে কোন কাসে দেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ৩ বছর পর শিশুদের ইন্টার কনভেনশনাল কিনিক থেকে কাসে রাখা হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ৬ বছর নার্সিং করার পর তাকে জেনারেল বা ভোকেশনালে ভর্তি করার উপযোগী করা হবে।


Spread the love