আজ মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৮:১৫

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের গনিতের ৩ মেধাবির সেরা হওয়ার গল্প


শোভন এহসানঃ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বিজ্ঞান অনুষদের এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্বর্ন পদক ও বৃত্তি প্রদান ২০২০ এ পেয়েছেন গনিত বিভাগের ৩ মেধাবি মুখ।
এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন থেকে শুধু মাত্র গনিত বিভাগের সেরা শিক্ষার্থীদের কে স্বর্নপদক দিয়ে থাকে।এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় সহ ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের গনিত শিক্ষায় কৃতিত্বের জন্য এই ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের জন্য স্বর্ন পদক ও বৃত্তি প্রদান করে থাকে গনিতের মেধাবী মুখদের কে।স্বর্ণপদক পাওয়ার নিয়মটা বেশ কঠিন। সম্মান পরিক্ষায় নূন্যতম সিজিপিএ থাকতে হয় ৩.৭৫ এবং তা পেতে হবে কোনো মান উন্নয়ন পরিক্ষা ছাড়াই।কীভাবে গনিত বিভাগ থেকে পেলেন তারা এ সম্মাননা?তাদের মুখ থেকেই শোনা যাক সে গল্প।

সুব্রত কুমার পাল।ছোট বেলা থেকেই তার ভালো লাগতো অংক কষতে।গনিত বিভাগে সুযোগ পেয়ে তার প্রথম ইচ্ছা ছিলো গনিত নিয়ে ভালো কিছু করার।তাই নোট করে পড়তাম, ক্লাসেও ছিলাম নিয়মিত।শুধু কি এভাবেই সাফল্য ধরা দিয়েছে তার হাতের মুঠোই?মোটেই না।এ সাফল্যের পিছনে বিরাট অবদান আমার পিসিমার।রাজেন্দ্র কলেজে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর পিসিমার বাসায় থাকতাম।পিসিমা সর্বোচ্চ কেয়ার নিতো পড়াশোনার ব্যাপারে।পিসির কষ্ট বৃথা যায়নি।বিএসসি অনার্স এ সিজিপিএ ৩.৮০ পেয়ে বিভাগের প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি, তার চোখে ভাসছে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার হয়ে গনিতের আলো ছড়িয়ে দিতে।

এমএসসি তে গনিতে সিজিপিএ ৩.৯৪ প্রাপ্ত বিভাষ সেন বলছিলেন গনিতের প্রতি তার ভালোবাসার কারন ‘যুক্তি দিয়ে বুঝলেই হয় গনিত,মুখস্ত করার বালাই নেই।অন্য বিষয়ের চাইতে গনিতের মজাটা এখানেই।’অনেক সংগ্রাম করে এত দূর আসতে হয়েছে তাঁকে।সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছায় বয়ে এনেছে সাফল্য।বিভাস সেন স্বপ্ন দেখতেন বাবার জন্য কিছু করে দেখানোর।এ সম্মাননা পেয়ে বাবা আজ অনেক খুশি।’বলছিলেন তিনি।

সোহেল রানার গল্পটা বেশ মজার ‘ স্কুলে ভালো ছাত্র ছিলাম,অথচ গনিতে উৎসাহ ছিলো না তেমন।ভাবতাম বিজ্ঞান মানেই ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হওয়া,অন্য কোন বিষয়ে পড়া মানেই বেকারের খাতায় নাম লেখানো।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পাওয়ার পর ঠাঁই মিলল রাজেন্দ্র কলেজের গনিত বিভাগে। এত ভালো একটা বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েও প্রথম দিকে অত বেশি সিরিয়াস ছিলাম না।ভালোবাসতাম সাহিত্য উদাস হতাম লালন গীতির সুরে।দ্বিতীয় বর্ষে উঠে পড়াশোনাটা সত্যি সত্যি শুরু করি।সব মিলিয়ে মাস্টার্স শেষ করি ৩.৯২ পেয়ে।
ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে,সে ধরনের কোন প্রকল্পে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর।

রাজেন্দ্র কলেজের গনিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহীদুর রহমান বলেন,রাজেন্দ্র কলেজের গনিত বিভাগটি সেশনজট থেকে মুক্ত।গনিতের পাশাপাশি তাত্ত্বিক বিষয়ের ওপর ও জোর দিতে হয় অনেক।শিখতে হয় প্রোগ্রামিং।শিক্ষকতা ও গবেষনার পাশাপাশি গনিতের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চাকরির চাহিদাও অনেক বেশি।

     আরো পড়ুন