Spread the love


বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ১৫৭নং ধুলজোড়া মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত ২৫ শতক জমিতে পূজাখোলা রয়েছে। ধুলজোড়া, জয়পাশা ও মালিখালী গ্রামের প্রায় দুইশত বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ পূজাখোলায় বিভিন্ন প্রকার পূজা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমিতে দেড়শত বছরের একটি পাকড় গাছ রয়েছে। ওইখানে প্রতি বছর মাঘি পূর্ণিমার পরের দিন মেলা বসে আসছে। জমিটুকু সরকারি খাস খতিয়ানে হওয়ার কারণে গোপনে জায়পাশা গ্রামের হাসান আলী, নুরু আলী ও ছিরু আলী প্রায় ৫বছর আগে তাদের নামে বন্ধোবস্ত নেয়। পরে বিষয়টি পূজাখোলার কমিটির সদস্যরা জানতে পেরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের ভিত্তিতে বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেওয়া একটি চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, বর্ণিত জমিতে বর্তমানে বন্দোবস্ত গ্রহীতাগণ ভোগদখলে আছে কিনা, বন্দোবস্ত কেস নথি বাতিল করা প্রয়োজন কিনা এবং বন্দোবস্ত কেস বাতিল না করলে বর্তমানে এলাকায় জনগণের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি করতে কোন অসুবিধা হবে কিনা।
কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পারছে না ওই জমিতে মন্দির স্থাপন করতে। যার কারণে পূজা অর্চনা করতে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাকড় গাছের নিচে ফাকা জায়গায় প্রতিমা রয়েছে। সেই প্রতিমা ঘিরে হিন্দুদের পূজা অর্চনা চলছে।
পূজা খোলার দায়িত্বে থাকা ধুলজোড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়ূর কুমার স্মরণ বলেন, দুই শত বছরেরও বেশি আমরা তিন চার গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই পূজা খোলায় মনোসা, সরসতি, বাস্ত ও বারোয়ালী পূজা করে আসছি। পূজা খোলায় আমাদের একটি ঘরও ছিল। ঘরটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখানে আমাদেরকে আর কোন ঘর তুলকে দেয়না জয়পাশা গ্রামের হাসান আলী, নুরু আলী ও ছিরু আলীরা। পূজা খোলা আমাদের দখলে রয়েছে, প্রতি বছর আমরা এখানে মেলা বসায়, বিভিন্ন পূজা করি। আমাদের প্রতিমাও রয়েছে। তারপরও আমাদেরকে ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিপাকে পড়েছি। তিন চারটি গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই একটাই পূজা খোলা রয়েছে।
পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. ওলিয়ার রহমান শরীফ বলেন, আমার জন্মের পর থেকে দেখছি এই পূজা খোলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা অর্চনা করতে। এখানে প্রতি বছর মাঘি পূর্ণিমার পরের দিন মেলা বসে। এ বছরও বসেছে। একটি মহল এই পূজা খোলা দখল করতে বিভিন্ন কৌশাল অবলম্বন করছে। এই পূজাখোলার জায়গা তাদের বেদখল হলে তাদের আর পূজা অর্চনা করার মত কোন জায়গা থাকবে না।


Spread the love