Spread the love

বি এম রাকিব হাসানঃ চিকিৎসক বা ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা করা হচ্ছিলো খুলনার সামছুর রহমান রোডের রংধনু কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে। কমিশনের বিনিময়ে সেখানে রোগী পাঠাতেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আর ভুয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে রোগীদের নিকট থেকে আদায় করা অর্থের নির্দিষ্ট ভাগও পেতেন ওই চিকিৎসকরা। গত ২৪ ফেব্রæয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় নামী দামী চিকিৎসকের তালিকা ও সাক্ষর জাল করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের প্রমাণ মেলে। এর আগে ২০ ফেব্রæয়ারি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাধ্য করাতে গিয়ে বেসরকারি ফাতেমা কিনিকের দুই কর্মী আটক হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলেই এভাবে অপ্রয়োজনীয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, নগরীতে ৬৫টি ডায়াগনস্টিক ল্যাব থাকলেও বাস্তবে রয়েছে শতাধিক।
খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজন শহিদুল ইসলাম বাচ্চু জানান, কয়েকদিনের জ্বর নিয়ে তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক এই পর্যন্ত আটটি পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি পরীক্ষা ওই চিকিৎসকের পরামর্শে সন্ধানী কিনিক থেকে করানো হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধ কিনতে কিনতে ফতুর (নিঃস্ব) হলেও জ্বর কমছে না।
জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি এই হাসপাতালে বহির্বিভাগে দুদকের অভিযানে চিকিৎসক ডা. সুমন রায় ও শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের কক্ষ থেকে বেসরকারি কিনিক মাক্স হেলথ্ কেয়ারের প্যাড, মা হেলথ কেয়ার, সিটি ইমেজিং সেন্টার ও ভিউ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অসংখ্য প্যাথলজি ¯িøপ উদ্ধার হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব চিকিৎসকরা কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে কমিশন বাণিজ্যে জড়িত। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও টাকার বিনিময়ে সাধারণ রোগীদের বেসরকারি ওইসব কিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে রোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে কোনো মনিটরিং না থাকায় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভুগতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষয়ে রোগীদের ধারণা না থাকায় সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের মনিটরিং সেল গঠনের দাবি উঠেছে। যারা রোগীর অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থা নেবে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, হাসপাতালের অভিযুক্ত চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া আগেও তাদেরকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কমিশন বাণিজ্যে জড়িত চিকিৎকদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।


Spread the love