Spread the love

খুলনা প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস চিকিৎসায় খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনও কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেই। কার্যত সকল প্রস্তুতিই ১০টি বেড প্রস্তুত রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে এখনই একজন করোনা আক্রান্ত রোগী এলে কোথায় কিভাবে তার চিকিৎসা দেয়া হবে তা নিয়ে রয়েছে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তহীনতা। এ অবস্থার মধ্যে খুলনা বিভাগে নতুন করে ২৪ ঘন্টায় ২২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলায় দিল্লি ফেরত এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সব ধরনের লক্ষণ থাকায় তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আইসোলেটেড করে রাখা হয়েছে। আর তার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় গত দুইদিন ধরে ফোন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কিট সংকটের অজুহাতে স্যাম্পল নিতে আসেনি ঢাকার আইইডিসিআর থেকে। এদিকে এই রোগীর করোনা সনাক্ত হলে কি পদক্ষেপ নেবে তার কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে। বাগেরহাটের সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে জানা যায় এই রোগীর করোনা সনাক্ত হলে সম্ভবত তাকে ঢাকায় নেয়া হবে।
এদিকে নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২২৪ জনকে। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৪১৭ জন। এরা স¤প্রতি ভারত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, ইতালি, কোরিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।
হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এখন পর্যন্ত বেড প্রস্তুত রাখার মধ্যেই তাদের প্রস্তুতি সীমাবদ্ধ রয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রটেকটিভ গাউন, হ্যান্ড গেøাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছে না হাসপাতালগুলো। এখন পর্যন্ত সামান্য কয়েকটি চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে তারা বসে আছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মিড লেভেলের চিকিৎসকরা কোন রোগী হাসপাতালে আসলে তাকে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসা দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজনে বাড়িতে না গিয়ে হাসপাতালেই রাত্রি যাপন করতে রাজি তারা। তবে চিকিৎসা সরঞ্জাম না দিলে তাদের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে একজন চিকিৎসক।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ রাশিদা খানম বলেন খুলনা বিভাগে ৬৪১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাদের উপর নজরদারি রাখা হয়েছে। তিনি সবাইকে দেশ ও পরিবারের স্বার্থে হোম কোয়ারেন্টাইন মানার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।


Spread the love