Spread the love

রবিউল হাসান রাজিবঃ মানুষ মানুষের কল্যাণের জন্য। শুধু নিজ ধর্মীয় গোত্রেই নয়, বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ যিনি হচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার পৌরএলাকার বর্ধিত পৌরসভার দেওড়া সাবেগ (ভবনন্দপুর) এলাকার স্বর্গীয় নিতাই লাল শাহার চার পুত্রের মধ্যে জগজীবন সাহা (৫০) তৃতীয়।

জগজীবন সাহা স্বেচ্ছায় নিজের শরীরের ৫০ বছরে ৮৮ তম ব্যাগ রক্ত প্রদান করে সারা দেশে চ্যাম্পিয়ন।

২৯/০৩/২০২০ রবিবার তার শরীর থেকে ৫০০ বেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক প্রসুতি ‘মা’ গেরদা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর আঃ লতিফ এর পুত্রবধু মোছাঃ শান্তা বেগমকে (২৬) রক্ত দান করেছেন।
রক্ত দান করার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসুতির শশুর ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরা।

জগজীবন সাহা সন্ধানী ডোনার ক্লাব ফরিদপুর এর সর্বোচ্চ রক্ত দাতা সদস্য।

ফরিদপুরের আলোচিত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় রক্ত দাতা জগজীবন সাহার পিতা নিতাই লাল শাহা ১৮ বছর পূর্বে মারা গিয়েছে।

স্বেচ্ছায় রক্ত দান কর্মসূচী অর্থাৎ ১৯৯১ সাল থেকে রক্ত দেয়া শুরু করে আজ অব্দি জগজীবন সাহা ৮৮তম ব্যাগ রক্ত দান করেছেন ফরিদপুর সন্ধানী ডোনার ক্লাব সহ বিভিন্ন রোগীকে।

একজন মানবতাবাদী মানুষ জগজীবন সাহা শুধু রক্ত দেয়াই নয় সমাজের সব ভালো কাজে তিনি অংশ গ্রহন করে থাকেন।

তিনি তার বিবাহের দিন ও প্রথম সন্তান হবার দিন, তার পিতার মৃত্যুবার্ষিকী সহ বিশেষ বিশেষ দিনে রক্তদান করার মধ্য দিয়ে দিনের সুচনা করেছেন।

বর্তমান বিশ্বের ব্যাপক আলোচিত মরনব্যাধি নোভেল করোনা COVID-19 এর সংক্রমণের আশঙ্কায় সারা বিশ্বের মানুষ যখন হতাশ, এ সময়ে জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘড় থেকে বের হচ্ছে না, সে সময়েও স্বেচ্ছায় রক্ত প্রদানের জন্য ব্যাপক আলোচিত জগজীবন সাহা একজন প্রসুতি মায়ের জন্য নিজ শরীরের রক্ত প্রদান করেছেন।

তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। ফরিদপুরের সদর উপজেলার শহরতলীর মুন্সির বাজারে তার ডেকোরেশন ও টিন ব্যবসার ঘড় রয়েছে।

তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেন।

তাহার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় সাংবাদিকের কাছে বলেন আমি সাধারণ মানুষের জন্য যথাসাধ্য সেবা করে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন মানুষ মরণশীল। তবে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত কাজ অমর। তাই আমি আমার পক্ষ থেকে রক্ত দান ছাড়াও সামাজিক কার্যক্রমে মানুষের সহযোগীতা বৃদ্ধির করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।


Spread the love