Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লা গঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৪ জন কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিবেশি রইচ হাওলাদার গং। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৮ ই মে শুক্রবার পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আমার ছোট ভাই মুন্নু শেখের স্ত্রী ঝুমা আক্তারের সাথে প্রতিবেশী রইচ হাওলাদারের পরিবারের সাথে কথা কাটা-কাটি চলে আসছিল। তারই জের ধরে গত ৮ ই মে শুক্রবার সকাল ৮ টার সময় পাশ্ববর্তি বাড়ির রইচ হাওলাদারে মা রহিমা অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করলে, এক পর্যায় ঝুমা আক্তার তার ভাসুর মুজিবুর কে জানাতে বাধ্য হয়। পরে মুজিবুর রহমান জানার পর তার ছোট ভাই সাজাহান শেখকে নিয়ে রহিমাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে রইচ হাওলাদার উত্তেজিত হয় এবং তার ছোট ভাই বাবু হাওলাদার ধারালো অস্ত্র ছ্যানদা নিয়ে এগিয়ে আসে মুজিবরকে মারার জন্য। এ সময় পিছন থেকে এসে পাশ্ববর্তি বাড়ির আজগর আলীর ছেলে রজব আলী, মুজিবুরকে জরিয়ে ধরলে, প্রতিপক্ষ জুয়েল এসে রড দিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মুজিবুরের মাথায় আঘাত করে, এসময় তার মাথা ফেটে দেড় – ২ ইঞ্চি ছিদ্র হয়ে যায়। এদিকে প্রডিতপক্ষ বাবু হাওলাদার এসে মুজিবরের ছোট ভাই সাজাহানের বাম পায়ের গিড়ায় কোপ দিলে তিনি মটিতে লুটিয়ে পরে এবং গুরুতর রক্তাত্ব আহত হয়। এতেও থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা, পরে প্রতিপক্ষ রানা এসে আবারো সাজাহানের হাতে আঘাত করলে হাত ভেঙ্গে যায়। মারা-মারির এক পর্যায়ে মুজিবরের শ্যালক কামাল ও চাচাতো ভাই ইলিয়াস ঠেকাতে গেলে তাদের উপর ও বর্বরিচিত হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এতে কামালের বাম পাশে গলায় ছ্যানদা দিয়ে কোপ দেয় প্রতিপক্ষ বাবু, আর ইলিয়াস এর মাথায় রানা ছ্যানদা দিয়ে কোপ দিলে সে ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। এঘটনায় আহতদের ডাক-চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসির সহযোগিতায় আহতদের সদরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রোগীদের অবস্থা আশংখ্যাজনক হওয়ায় সদর হাসপাপতাল থেকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। বর্তমানে আহত ৪ জনই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মুজিবুর এবং সাজাহান ২ জনই গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। কিছু সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবেনা। এ ঘটনায় ভাঙ্গারদিয়া এলাকায় স্থানীয় জনতার মাঝে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের থানায় মামলা করার জন্য বাধা সৃষ্টি করছে রইচ হাওলাদারসহ তার সহযোগীরা। তবে উল্লেখিত ঘটনায় মামলা করার জন্য প্রস্ততি চলছে বলে আহতের পরিবার জানান। এলাকাবাসী সুত্রে আরো জানা যায়, রইচ হাওলাদার এর ছোট ভাই বাবু হালাদার খুব স্বল্প বয়স থেকেই নেশার সাথে সম্পৃক্ত, এমনকি সে এই নাবালক অবস্থায়ই মাদকের কেনা বেচা করে আসছে। আর তারই জন্য সে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছে। উক্ত বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষন করে তদন্ত পূর্বক, রইচ হাওলাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।


Spread the love