আজ সোমবার, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং,রাত ৪:৩৩

খুমেকে পরীক্ষা ছাড়াই করোনা নেগেটিভ সনদ, ফু কর্ণারের মূখপাত্রকে অব্যাহতি

বি এম রাকিব হাসান: খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ফু কর্ণারে ভর্তি থাকা ৪ জন রোগীকে করোনা আক্রান্ত নয় বলে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন ফোকাল পারসন (মুখপাত্র) ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
তার কথার উপর ভিত্তি করে ফু কর্ণারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয় চারজনকে। সেখানে একদিন পরে তাদের করোনা হয়েছে বলে জানানো হয় খুমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে। এতে করে মেডিসিন ওয়ার্ডের ভর্তি থাকা অর্ধশতাধিক রোগী, চিকিৎসক নার্সসহ শতাধিক রোগীর স্বজন পড়েছে করোনার মারাত্মক ঝুঁকিতে।
ইতোমধ্যে ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসক নার্সসহ ১০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। এমন নানাবিধ কাজের জন্য ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে খুমেক হাসপাতালের ফু কর্ণারে ফোকাল পারসনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে খুমেক হাসপাতালের এক সভায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে চিঠি দিয়ে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু হাসপাতালের নিবন্ধন খাতায় স্পষ্ট ঠিকানা না থাকায় তাকে খুঁজে পেতে বিপাকে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথমে জানানো হয়, ওই ব্যক্তি জেলার রূপসা উপজেলার কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু সেখানে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ওই ব্যক্তির নামের সঙ্গে মিল থাকায় রূপসা উপজেলার এক সাংবাদিকের করোনা আক্রান্তের গুজব রটে। এতে বিপাকে পড়েন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার। পরবর্তী সময়ে প্রকৃত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মেলে নগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশায়। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলিতে আসা রোগীদের অস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না লেখায় প্রতিনিয়ত এমন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ গত রবিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআরে করোনা পজিটিভ আসা একই পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। তারা বর্তমানে খুলনার করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের রোগী নিবন্ধকরা নিজেদের কষ্ট লাঘবে দিনের পর দিন এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব ব্যক্তি হাসপাতালের আসা রোগীদের নাম-ঠিকানা কোনো রকমে লিপিবদ্ধ করে দায়িত্ব শেষ করেন। অন্যদিকে এখানে রোগী না দেখে করোনা নেগেটিভ সনদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. মোনতাজুল হক বলেন, কোনো রোগী হাসপাতালে তথ্য গোপন করলে অনেক ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়। স¤প্রতি তিন রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, নানাবিধ ঘটনায় ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে ফু কর্ণারের ফোকাল পারসনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিষেশ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ফু কর্ণারের ফোকাল পারসন হিসেবে ডাঃ মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

     আরো পড়ুন