Spread the love


রূপসা প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউলের ডিলার খুলনা জেলার রূপসা উপজেলাধীন শ্রীফলতলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার মিজানুর রহমানের ডিলারশীপ বাতিল হয়েছে।
জানা যায়, রূপসা থানাধীন নন্দনপুর গ্রামের শহিদ শেখ, সেলিম শেখ, আনিসুর রহমান, সাঈদুর রহমান, খালেদা বেগম, জাহিদ মুন্সি, মুকুল শেখ, কামালর্ সূচির ১৪ টি পরিবারের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ, রফিকুল শেখ, মমতাজ, নাসিম হাওলাদার, ওলিয়র হাসান, আসলাম খা, ফারুক হাওলাদারের নাম তালিকায় থাকলেও তারা ২০১৬ সাল হতে পাচ্ছেন না চাউল। তাদের নাম তালিকায় আনার জন্য ২০১৬ সালে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ছবিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নেয়া হয়। কিন্তু তারা ৪ বছর ধরে চাউল পান নি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সুযোগ সুবিধা হতে ভুক্তভোগিদেরকে বঞ্চিত করেছে এই চাউলের ডিলার। তিনি নাকি একাই ভোগ করতে থাকেন এ সুযোগ সুবিধা এবং আত্মসাত করেন চাউল এমনটি জানা যায়। এ বিষয়টি জানতে পেরে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে সত্যতা পেয়েছেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কমিটির সাথে গত সোমবার এক সভার আয়োজন করেন এবং উক্ত ব্যক্তির চাউলের ডিলারশীপ বাতিলের জন্য সুপারিশ করেন। সেই ভিত্তিতে গত সোমবার অভিযুক্তর বিরূদ্ধে আয়োজিত সভায় মিজানুর রহমানের চাউলের ডিলারশীপ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আরও জানা যায়, তার দেওয়া জামানতের ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করণ, ভুক্তভোগী ১৪ টি পরিবারের এ যাবত কাল চাউল না পাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য কমিটি গঠন করা, ও ক্ষতিপূরণ আদায় করার বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে আওয়ামীলীগ দলের ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়ে চাউল আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে তদন্ত হয়ে সত্যতা পাওয়ার পর তাকে দল থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবেকি এ বিষয় খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী মুঠোফোনে জানিয়েছে, উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে আমাদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য আমরা তার বিরূদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। তবে তিনি আরও বলেন,গত সোমবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সভায় তার ডিলারশীপ বাতিলসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে একই অপরাধের জন্য আরেক ডিলারকে সংশোধন হতে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এবং সরদার মিজানুর রহমান এর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই অপরাধের জন্য একজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে অপরদিকে অন্য জনকে সতর্ক হতে বলা হয়েছে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার মুঠোফোনে জানায়, সরদার মিজানুর রহমান এর বিরূদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সভায় তার ডিলারশীপ বাতিলসহ জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তকরণ, ভুক্তভোগী ১৪ টি পরিবারকে এ যাবত কাল যে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে তা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপরদিকে রূপসা ঘাটভোগের শিয়ালী এলাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউলের ডিলার খোকন মন্ডলের বিরূদ্ধে একই অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সভায় তার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার সুষ্ঠু কাগজপত্র ও প্রমান তিনি দেখিয়েছেন বিধায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় নাই বিধায় তার বিরূদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারি নাই। তবে তার বিরূদ্ধে ভবিষ্যতে যেন এধরনের অভিযোগ না হয় সেজন্য তাকে সংশোধন হতে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে তিনি আরও জানান, তিনি উক্ত বিষয়ে খোজ খবর নিচ্ছেন, যদি কোন ধরনের আত্মসাতজনিত ঘটনা ঘটে তাহলে তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাউল আত্মসাতের জন্য অভিযুক্ত শ্রীফলতলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার মিজানুর রহমানের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে, তবে তাকে দল থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে রূপসা থানা আওয়ামীলীগের সাংগনিক সম্পাদক চঞ্চল মিত্র মুঠোফোনে জানান, তার ডিলারশীপ বালিতসহ অন্যান্য সিদ্ধান্তর বিষয়ে আমরা শুনেছি। দলের নাম ব্যবহার করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য তাকে দল থেকে বহিস্কার করা উচিত বলে আমি মনে করি। মিজান সরদার রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু আপন ভাই। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরে মধ্যে সমন্বয়ের অবনতির কারণে এ বিষয়ে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।


Spread the love