Spread the love

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) হত্যাকান্ডের শিকার দুই মেধাবী ছাত্রলীগ নেতার হত্যার মামলাসহ আরোও একাধিক মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব ও দিনাজপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজবকে ১১ জুন আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে তার বাহাদুড় বাজারের আবাসিক হোটেল আফিয়া থেকে গ্রেফতার করে এবং দিনাজপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ সুজনকে তার নিজ বাড়ী সুইহারী ড্রাইভার পাড়া থেকে গ্রেফতার করে হাবিপ্রবি’র দুই ছাত্রলীগ নেতার হত্যার মামলার তদন্ত কারি সিআইডি।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত বজলুর রশিদ বলেন, হাবিপ্রবি’র দুই ছাত্রলীগ নেতার হত্যার মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে নির্দেশনা মোতাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব ও দিনাজপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে গ্রেফতার করে জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। এই হত্যা মামলায় আরোও এজাহার ভুক্ত আসামীদের আটকের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন ।

তিনি আরোও জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব দুটি হত্যা মামলা ৬ টি মামলায় আটক করা হয়েছে আর দিনাজপুর সরকারী কলেজের ছাত্রলীগ শাখার সাধারন সম্পাক সাব্বির আহমেদ সুজন কে একটি হত্যা মামলা ৫ টি মামলা গ্রেফতার করা হয়েছে।

আটক স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটকের সংবাদ শহরে জড়িয়ে পড়লে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া জাকির, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভির ইসলাম রাহুল, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই শতাধিক নেতাকমী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব মুক্তি দাবিতে কোতয়ালী থানা প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল করে।

মিছিল থেকে ইট ফাটকেল ছুড়ে পুলিশ অফিসার সহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশ লাঠি চার্জ করে মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে গ্রেফতারের পর গোটা শহর জুড়ে থমথম ভাব বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ায় অনেক ভুক্ত ভুগি পরিবার স্বস্থি ফিরে এসেছে।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়ার বাবা গোলাম মোস্তাফা বলেন, অনেক দিন পর হলেও আমার ছেলে হত্যা মামলার অন্যতম আসামীকে গ্রেফতার করায় স্বস্থি পাচ্ছি। তবে এই মামলার সকল আসামীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে সবোর্চ্চ শাস্তি দাবি করছি। আমার একমাত্র ছেলে জাকারিয়াকে যে ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রধান মন্ত্রীর মাধ্যমে ন্যায় বিচারের পাব এটা আমার বিশ^াস।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে দুই নিহত ছাত্রলীগ নেতার জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের বাবা-মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাাৎ করেছেন। ছেলে হারা দুই পরিবারের বাবা- মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকভাবে সহায়তাসহ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। খুনের ঘটনায় পরিবারের করা পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়।

নিহত বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টনের বাবা মা প্রধানমন্ত্রীর বিচারের আশ^াসের প্রতিফলন হিসাবে আজকে দুই নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ

উল্লেখ্য যে, গত ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্য অংশের সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন নিহত হন। ঘটনার পাঁচ বছর পরও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী। তবে পাঁচ বছর পরে হলেও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে দুই ছাত্রলীগ নেতা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের আশায় বুক বেঁধেছেন পরিবারের স্বজনরা।


Spread the love