Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নির্দেশে সকল প্রকার নকল, ভেজাল এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ মোঃ সজীবের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছেন।

রবিবার বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ মোঃ সজীব।

আজ ২১ জুন ফরিদপুর পৌর এলাকায় মাস্ক না পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলার অপরাধে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্টে ৫ টি মামলায় ৬০০০/= টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় মানুষকে সচেতনও করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মেডিসিন শপ “হাছিনা ড্রাগ হাউজ” কে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পৃথক আরেকটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেডিসন শপে আপাতদৃষ্টিতে তিনটি ত্রুটি পাওয়া যায়। ১. পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ছিল না (৩০ জুন, ১৯ এ মেয়াদ শেষ)। ২. ঔষধ রাখার ফ্রিজে ঔষধের সাথে দুধের বোতল, প্যাকেটে ছেড়া বিস্কুট ও খাবার ভর্তা পাওয়া যায়। ৩. মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়!

এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বমোট নগদ ১৬০০০/= জরিমানা আদায় করেছে। বাজারের বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে নকল, ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তা করে ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্য এর একটি দল।

ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা বলেন, ফরিদপুরে করোনা সংক্রমনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কিন্তু মানুষের মাঝে করোনা ভীতি নেই। রাস্তা-ঘাটে সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে মানুষজন ভিড় করছে। মাস্ক ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা করছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সদর উপজেলাবাসীকে জানিয়ে দিতে চাই। সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি না মানলে প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে জেল, জরিমানা গুনতে হবে। ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ করবে। প্রত্যেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবানুনাশকের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার নির্ধারিত সময়ে দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। আমরা এখন থেকে রাত-দিন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো।

অভিযানের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আজ রবিবার সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ মোঃ সজীব দৈনিক নাগরিক দাবি উপজেলা প্রতিনিধিকে বলেন, সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত রীতিমতো কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে প্রশাসন এখানকার মানুষদের বারবার তাগিদ দিলেও অধিকাংশরাই তা মানছেন না। তিনি আরো জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Spread the love