Spread the love

বি এম রাকিব হাসান : হাইকোর্টে জামিন জালিয়াতির ঘটনায় খুলনার দিঘলিয়ার আলোচিত টিপু শেখ হত্যা মামলার পাঁচ আসামি থানায় এসে আত্মসমর্পন করেছেন।
গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় তারা দিঘলিয়া থানায় আত্মসমর্পন করেন। থানার ওসি মঞ্জুর মোর্সেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাঁচ আসামি হলেন, লুৎফর শেখ, সোহাগ শেখ, জুয়েল শেখ, সেলিম শেখ এবং আবদুল্লাহ মোল্লা।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ আসামীদের ধরতে তৎপর হয়। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় আসামীরা ভয়ে তটস্থ হয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করে। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
এর আগে গত ১৭ মে পাঁচ আসামি ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। জামিন জালিয়াতির বিষয়টি মারা যাওয়া টিপু শেখের পরিবার থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে জানানো হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আনলে এক সপ্তাহের মধ্যে আসামীদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। আর আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে আসামিদের আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই আইনজীবীকে সব ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
গত ১০ জুন জামিন জালিয়াতির বিষয়টি নজরে আনার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টিপু শেখ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে কুপিয়ে এক পা বিচ্ছিন্ন ও অপর পায়ের অর্ধেক বিচ্ছিন্ন করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা টিপু শেখকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় টিপু শেখের বাবা আলমগীর শেখ বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।


Spread the love