Spread the love

সজীব ইসলাম,মধুখালী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের মধুখালীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক কৃষক নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মধুখালী উপজেলার কোড়কদী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই কৃষককের নাম সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা (৬৩)। তিনি ওই গ্রামে মৃত আদিলউদ্দিন মোল্লার ছেলে। নিহতের বুকের ডান পাশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন মনিরুল ইসলাম(২৫), হানিফ মোল্যা(২৫), কামরুল মোল্যা(৪০), সাহা শেখ(৫০) এবং কুদ্দুস শেখ (৩৫)। আহতদের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোড়কদী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেন রিক্তর সাথে গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক ইউপি সদস্য মো. আহমেদ আলীর বিরোধ চলে আসছিল। এর পাশাপাশি আহমেদ আলীর ওই এলাকায় তার কিছু জমি বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিলেও জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় এলাকাবাসী কয়েকজনের সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তারা পরবর্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানে সাথে যোগ দেন।

এ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল। ২০১৭ সালে আহমেদ পক্ষ প্রতিপক্ষের বেশ কিছু বাড়ি ভাংচুর করে। এর প্রতিবাদে মুকুল চেয়ারম্যান পক্ষ আহমেদের নির্মাণাধীন একটি পাকা দালান ভাঙচুর করে এবং ছাদে কয়েকটি ছিদ্র করে দেয়। এর পর থেকে আহমেদ এলাকা ছেড়ে মধুখালী উপজেলা সদরে বসবাস করতেন।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নিহত সিদ্দিকুরের ছেলে আহত কামরুল জানান, তিনি ভোরে মাগুরা বাজারে মরিচ বিক্রি করতে যান। মরিচ বিক্রি করে বাড়িতে ফিরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাত খাচ্ছিলেন। এমন সময় আহমেদের ৩০/৪০ জন সমর্থক রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে এসে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিনি যেতে অস্বীকার করলে রামদা দিয়ে কোপ দেন। তখন তার বাবা সিদ্দিকুর ও প্রতিবেশী কয়েকজন তাকে বাঁচাতে এলে তারা সকলে ধারাল আস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এর মধ্যে সিদ্দিকুরের বুকের ডান পাশে রাম দায়ের কোপ লাগে।

পরে এলাকাবাসী সিদ্দিকুরসহ আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. কবির সর্দার সিদ্দিকুরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কোড়কদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেন বলেন, জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আহমেদের সমর্থকরা সিদ্দিকুরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার ছেলেসহ তিনজনকে আহত করে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত আহমেদ আলী বলেন, তিনি এলাকায় নেই। বৃহস্পতিবার সকালে কাটাখালী এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে এবং একজন মারা গেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে তিনি বলেন, জানতে পেরেছি এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান মুকুলের দুই দল সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোড়কদীর কাটাখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে


Spread the love