Spread the love

রবিউল হাসান রাজিবঃ ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকার শহর রক্ষা বাঁধটি গত ১৯ জুলাই রবিবার সকাল আনুমানিক ৬.৪০ এর দিকে প্রবল পানির চাপে ভেঙে যায়।

পাকা রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় এতে বেশ কয়েকটি ঘর তাৎক্ষণিক পানির স্রোতে ভেসে যায় এবং তলিয়ে যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম।

গ্রামের লোকজন কোন রকমে জীবন বাঁচিয়ে গরু ছাগল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে উচু রাস্তার পাশে, কেউ কেউ বাঁধের উপরে, আবার অনেকে রয়ে গেছে পানিতে নিমজ্জিত থাকা বাড়িতেই।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ ভাঙার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার মেরামত কাজ শুরু করে।

জিওব্যাগ ভর্তি বালি ফেলে বাঁধের ভাঙ্গা অংশের প্রাথমিক মেরামত কাজ প্রায় শেষ। স্থানীয় জনগন প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বাঁধের মেরামত কাজ শেষ করেছে।

আজ ২১ জুলাই বাঁধের সংস্কার কাজ ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

পরিদর্শনের সময় তার সাথে আরও ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমান, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম রেজা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সোবহান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার প্রমুখ।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন আকস্মিক বন্যায় জেলার কয়েকটি উপজেলায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।

এর মধ্যে হঠাৎ করেই ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের এই শহর রক্ষা বাঁধ পাকা রাস্তাটি প্রবল পানির চাপে ৩০ মিটারের মত জায়গা ভেঙে যায়। আমরা দ্রুততার সাথে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে বাঁধের প্রাথমিক সংস্কার কাজ প্রায় শেষ করেছি। যাতে নতুন করে কোন সমস্যা তৈরী না হয়। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাকি কাজও শেষ হয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছে। এখন অন্তত আর কোন বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে না। দ্রুতই এলজিইডির মাধ্যমে বাকি কাজ সম্পন্ন করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আকস্মিক বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমরা আপনাদের এসকল ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সচেষ্ট রয়েছি। আমরা দুর্যোগে আপনাদের পাশে ছিলাম আছি থাকবো। আপনাদের যেন খাদ্যের কষ্ট না হয় সে জন্য নিয়মিত ভাবে শুকনো খাদ্য দেওয়া হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিদিন দুপুরে তৈরী খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

আজও এক হাজার বন্যার্ত মানুষের জন্য খাবার রান্না করে দেওয়া হচ্ছে এবং এটা চলমান থাকবে।

আপনাদের যে কোন সমস্যা আমাদের জানান আমরা তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


Spread the love