Spread the love

মোঃ গোলাম রাব্বানী

একদা এক রাজ্যে রাজা – রাণী বাস করতো। সবুজ অরণ্যে ঘেরা সে রাজ্য; সুখের অন্ত নেই। রাজ্য ও রাজা – রাণীরও কোন প্রেম এবং ভালবাসার ঘাটতি নেই। সেই রাজ্যের রাণীর খুব ইচ্ছে জাগলো পুরো রাজ্য টা ঘুরে দেখবেন। তো যেই ভাবনা সেই কাজ ; বেরিয়ে গেলেন পাইকপেয়াদা নিয়ে পরের দিন। রাণী ঘোড়ার গাড়ি হতে নেমে একটু হাঁটতে থাকলেন ; কিছু দূর হেঁটে গিয়ে রাণীর পুরো শরীর ধূলোময় হয়ে গেছে ; পরিস্কারের জন্য পানি চাইলো ; কিন্তুু কোথাও পানি পেলেন না। রাণীর বুঝতে বাকি থাকলো না যে এই রাজ্যে পানির চরম সংকট। আর এই রাজ্যের মানুষও বা কেমন রাজার কাছে বলেন না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আগত সেদিন। রাণী কান্ত খুব। হালকা খাওয়া – দাওয়া করে ঘুমিয়ে গেলেন। ঘুমে স্বপ্ন দেখলেন সেই রাজ্যে দিঘির প্রয়োজন পানির সংকট দূর করার জন্য। সকালে রাজসভায় নানান আলোচনার পর রাণী বলে উঠলেন ; আমার কিছু কথা আছে। তখন তিনি রাজা মশাই কে বললেন ; এই রাজ্যে একটি দিঘি খনন করতে হবে পানির সংকট দূর করার জন্য ; আগামীকাল আমরা সবাই যাব এই রাজ্যের মাঝে। আমি যেখান হতে পায়ে হেঁটে চলা শুরু করব ; সেখান হতে যতদূর পর্যন্ত হাঁটবো এবং আমার পা ফেটে রক্ত যতণ না বেরোবে ততণ পর্যন্ত হাঁটবো। রক্ত যেখানে বের হবে আমি থামিয়ে যাব। আর ঐ শুরু থেকে হাঁটা শেষ হওয়া পর্যন্ত দিঘি খনন করতে হবে। পরের দিন পাইক পেয়াদা সহ ও রাজা- রাণী চললেন। রাণী যথাস্থান হতে শুরু করলেন খালি পায়ে হাঁটা। যেতে – যেতে অনেক দূর গেলেন ; তখন এক পাশে থাকা রাণীর দাসী ভাবলেন ; এভাবে রাণী হাঁটতে থাকলে অসুস্থ্য হবেন আর যতদূর যাবেন এতো বড় দিঘি রাজা মশাই খনন করতে পারবেন না। তাই সে দাসী চুপ করে গা ঘেঁষে তার রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠলেন ; রাণী মা আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রাণী বসে পড়লেন। তাকে রাজ বাড়িতে আনা হলো ; পরে দেখলেন তার পায়ে কোন কাটা বা ফাটা নেই। এটা চালাকি করা হয়েছে। রাণী হেসে উঠলেন এবং উচ্চস্বরে বলে উঠলেন এ দিঘির নাম হবে ” আলতাদিঘি “।


Spread the love