আজ শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,দুপুর ১:৫১

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে ত্রাণের তালিকায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চাপ প্রয়োগের অভিযোগ

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে ত্রাণের তালিকায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চাপ প্রয়োগের অভিযো

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার ১নং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ সামগ্রীর ভাগ চাওয়া নিয়ে হুমকি-ধমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর শনিবার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর অনুপস্থিতিতে সচিবের নেতৃত্বে মেম্বরদের নিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রদানের তালিকা তৈরির সভা চলাকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে (তিনি নিজেকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দাবি করেন), ঈশান গোপালপুরে অনুপ্রবেশকারী গোয়ালন্দের বাসিন্দা মোঃ নূরুল আমিন, মোঃ জাহিদ মোল্লা, মোঃ মোস্তফা মোল্লা, মোঃ লুৎফর হোসেন, মোঃ আমিরুল মোল্লা, হিটলার শেখ সহ ৩০/৩২ জন লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে চলমান সভায় এসে উপস্থিত হন।

এ সময় শেখ জামালউদ্দীন সচিবকে বলেন বরাদ্দকৃত ত্রান সামগ্রী প্রদানের তালিকায় আমাদের নাম রাখতে হবে। ত্রান সহায়তা আসার পরে আমরা এগুলো নেতাকর্মীদের মধ্যে বন্টন করবো।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মন্টু সরকার তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন অসহায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী ত্রাণের তালিকায় আপনাদের নাম কেন দিতে হবে?

এর উত্তরে শেখ জামালউদ্দিন বলেন উপরের নির্দেশ আছে আমাদেরকে দিতে হবে। কিন্তু মন্টু সরকার ত্রাণের তালিকায় নাম দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি ধমকি প্রদান করেন এবং পরিষদের বিভিন্ন রুমের দরজায় লাথি দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করেন নূরুল আমিন সহ অন্যান্যরা এবং চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করেন।

এ বিষয়ে জামালউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। মজনু চেয়ারম্যান তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ইচ্ছেমত নাম দিয়ে এই ত্রান সামগ্রী বন্টন করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেও এর ফল পাইনি। গত ১০ তারিখে সচিবের কাছে গিয়ে বলি আমাদের এলাকার কিছু গরিব মানুষের নাম নিতে সচিব তা অস্বীকার করেন।

সিনিয়র নেত্রীবৃন্দের নির্দেশনা আছে কি না এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয় তারা কিছু জানেন না। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, করোনাকালীন সময়ে বিতরণের ত্রান সামগ্রী, চল্লিশ দিনের কর্মসূচি, বিধবা ভাতা, দশ টাকা দরের চাউলের তালিকার অনিয়ম, ভিজিডি কার্ড, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর করোনাকালীন দুই হাজার পাচশত টাকা প্রদান ঈদ উপহার হিসেবে, টিআর, কাবিখা, এডিবির সকল কর্মকাণ্ডের অনিয়মের বিষয়ে সকলেই অবগত আছে।

পরিষদ সচিবের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান আমি ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, লিখিতভাবে জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। এ রকম পরিস্থিতি আশা করি নাই। আপনারা চাইলে মেম্বারদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারেন। ঘটনাকালীন পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপংকর এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মজনু চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন রাজবাড়ী জেলাধীন গোয়ালন্দ উপজেলানিবাসী নূরুল আমিন। এ সময় পুলিশ তাকে ধমক দিয়ে চলে যেতে বলে। পরে পুলিশ চলে আসার পরে নূরুল আমিন সহ তার ৫/৬ জন সাঙ্গো পাঙ্গো ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন দরজায় লাথি দিয়ে ভাঙ্গার চেস্টা করে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাধ্যমে বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তবে বিষয়টি আসন্ন শীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বিষয়টি মাথায় রেখে কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে এমন বিষয়টি মাথায় রেখে দুস্থদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সে বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তার লোকজনের নাম তালিকাভুক্ত করার চাপ প্রয়োগ করে। বর্তমানে কোন প্রকার ত্রাণ কার্যক্রম চলমান নেই।

টিএসআই দীপংকর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ৯৯৯ থেকে অফিসে ফোন আসে যে, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের সচিবকে কে বা কাহারা তার রুমে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর কোন সত্যতা পাইনি। তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জামালউদ্দিন সহ আরও অনেককেই উপস্থিত পেয়েছি।

ঈশান গোপালপুরে নতুন ত্রাস! কে এই নূরুল আমিন? বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে…..

     আরো পড়ুন