আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,বিকাল ৫:৩৪

ভাঙ্গায় সরকারী জমিতে দোকানঘর বিতরনের নামে কোটি কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার থানা রোডের বাজারে সরকারী খাস খতিয়ানের জায়গায় দোকান ঘর অনিয়ম করে বিতরনের নামে কোটি কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিমনার ভুমি কর্মকর্তা আল-আমিনের বিরুদ্ধে।

এসব টাকা স্থানীয় দালাল সহ ভুমি অফিসের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। তড়িঘড়ি করে দোকান ঘর ভেঙ্গে রাতারাত বালু ভরাট করে ৮১ টি দোকান ঘর বিভিন্ন নামে বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে বুঝিয়ে দেন এ্যাসিল্যান্ড। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ও আবেদনকারী হাজার হাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিডিএলজি মোঃ মনিরুজ্জামান দোকান ঘরের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়।

এসময়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ও তার অপসারণের দাবীতে করে বিক্ষোভ মিছিল করে। অপরদিকে এসিল্যান্ডের পক্ষেও আরেকটি গ্রুপ (যারা দোকান পেয়েছে) বিক্ষোভ করে। তবে এসব অনিয়ম ও বানিজ্যের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রকিবুর রহমান খাঁন।

সহকারী কমিশনার মোঃ আল আমিন মিয়াকে তার অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও এলাকা সুত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে ৫৫ নং সদরদী মৌজার এস.এ, দাগ নং ৪২৩, ৪২৪ ও বিএস দাগ নং ১৮৫২, ১৮৫৩, ১নং খাস খতিয়ানে ৬২ শতাংশ জমি। এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসা ও এতিম খানার নামে ১০টি দোকান ঘর বরাদ্দ পেয়ে ব্যবসা করে আসছিল। হঠাৎ সরকারী এক আদেশ মোতাবেক তড়িঘড়ি করে দোকানঘর বুলডেজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। এরপর রাতারাত বালু ভরাট করে এসিল্যান্ড এর মাধ্যমে ৮১ টি দোকান ঘর বিভিন্ন নামে বরাদ্দ দেয়। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে তাদের মনোনীত ব্যাক্তিদের নামে দোকান ঘর বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকার বানিজ্যে করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ও এসিল্যান্ড। এঘটনা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিডিএলজি উক্ত দোকান ঘরের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও মৃত ডাঃ শাহাজাহানের বিধাবা স্ত্রী জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে ব্যবসা করে আসছি। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদেরকে দোকান দেন নাই।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নুর হোসেন মোল্লা বলেন, তফশিল বর্নিত জায়গায় দেওয়ানী মামলা করেছি মামলা নং ২২০/০৯ আমি মামলার কপি দেখানোর পরও ইউএনও স্যার কোন কর্নপাত করেন নি।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আবু ফয়েজ মোঃ রেজা জানান, পৌরসভার মধ্যে যে সমস্ত সরকারী জায়গা রয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী সেই জায়গায় পৌরসভার অধিনে কাজ হওয়ার কথা কিন্ত আমাদের উপেক্ষা করে এ্যসিল্যান্ড এই দোকান ঘর কিভাবে বরাদ্দ দেয় আমার জানা নাই।

এ দিকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রকিকুর রহমান খাঁন জানান, আমি যতটুকু জানতে পেরেছি উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা ভুমি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করেছে। তবে কোন অনিয়ম হলে ডিসিআর ও নির্মান কাজ বন্ধ করে দিব। আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ক্রমে আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ডিডিএলজি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন ভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর ডিসি মহাদয়ের নির্দেশে উক্ত দোকানঘর নির্মান কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং দোকানঘর নির্মানের বিষয় অনিয়ম হলে তদন্ত পুর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন জানান, দোকানঘর বরাদ্দের বিষয়টি আমার সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই তারা ইউএনও ও এ্যাসিল্যান্ড কাজটি গোপনে করেছেন। কোন অনিয়ম হলে সহ্য করা হবে না। আমার নিকট অনেক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে আমি ভুমি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করেছি। যোগ্য লোকদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে প্রাধান্য পাবে। এবং কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমার কানে এসেছে তবে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

     আরো পড়ুন