Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রামের আহম্মদ মোল্লার পুত্র আল আমিন (২০) প্রেমিকার সাথে অভিমান বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
গত ৯ই এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে এ বিষপানের ঘটনা ঘটে। বাড়ির লোকজন দেখার পরে তাকে দ্রæত ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রোগীকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রোগীকে পরবর্তীতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আহম্মদ মোল্লার চার ছেলে। কৃষি কাজ করে সংসারের সমস্ত জীবিকা নির্বাহের পর চারটি সন্তানকে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ আল আমিন (২০), তিনি ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এস এস সি পরিক্ষায় পাস করে, ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজে এইচ এসসি পড়–য়া একজন ছাত্র ছিলেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আল আমিনের সাথে প্রতিবেশী এক ভাবির বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আবার অনেকে বলেন এই ভাবির (রুনা) সাথেও তার সম্পর্ক ছিল।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে গ্রামের একই এলাকার ইয়াদ আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সাজেদুলের সঙ্গে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন নিবাসী রুহুল আমিন এর মেয়ে রুনা বেগমের বিবাহ হয়। স্ত্রী রুনা বেগম ও একটি কন্যা সন্তান রেখে প্রায় দু’বছর যাবত সে প্রবাসে রয়েছেন।
স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশী আল আমিন এর সাথে রুনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি নিহত আল আমিনের পরিবারের লোকজন জানতে পেরে, আল আমিনকে প্রেমের সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলে এবং আল আমিনকে অন্য জায়গায় মেয়ে দেখে বিবাহের কথা বলা হয়। এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ঘরে রাখা জমিতে ব্যাবহার করা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে।
এই ব্যাপারে নিহত আল আমিন এর বড় ভাই রায়হান মোল্লা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই ব্যাপারে রুনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আল আমিন আমার প্রতিবেশী হিসাবে দেবর হয়। শুধু দেবর হিসাবে কথাবার্তা হতো। তার সাথে অন্য কোন সম্পর্ক ছিল না। তাকে ছোট ভাই হিসেবে স্নেহ করতাম, এবং বিভিন্ন কাজে কর্মে সহযোগিতা নিতাম। আমার স্বামী এবং তিন বছরের একটি সন্তান আছে। আমি কেন এ সমস্ত কাজে জড়াতে যাবো। আমার স্বামী আমার কাছে থাকে না বলে এ সমস্ত কথা বলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।
রুনা বেগমের শশুর মোঃ ইয়াদ আলী জানান, আল আমীন সম্পর্কে আমার ভাতিজা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে তাকে আমি সাথে নিতাম। সেই সুবাদে আমার বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এটাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন লোক মিথ্যা কথা রটিয়ে বেড়াচ্ছে।

নিহত আল আমিন এর বড় ভাই রায়হান মোল্লা জানান, আমার ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন যাবত রুনার প্রেমের সম্পর্ক চলেআসছিল আমরা তাকে নিষেধ করেছি। এই সম্পর্কই আমার ভাইয়ের কাল হলো তাকে অকালে প্রান হরাতে হলো। মৃত্যুর আগের দিন রুনা, রুনার শ্বশুর ইয়াদ আলী ও শহীদুল আমার ভাই আল আমীনকে মারধর করে রুনা আমার ভাইয়ের সাথে খুব খারাপ করেছে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য সেই দ্বায়ী। মৃত্যুর আগে আমার ভাই একটি চিরকুট লিখে গিয়েছিল, ওর মৃত্যুরপর আমরা যখন ওকে নিয়ে ব্যস্ত তখন রুনা আমাদের ঘরে ঢুকে ওর মোবাইল ও চিরকুটটি আমার পাশের বাড়ীর এক চাচীর নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা ওদের কথোপকথনের রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ডিলেট করে দেয় এবং চিরকুটটি গায়েব করে দেয়। আমরা ওদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তী দাবী করছি।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •