Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামে চাঞ্চল্যকর সেকেন্দার আলী মোল্লা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার সকালে উপজেলার ভাঙ্গা কলেজপাড়-পীরেরচর ফিডার সড়কের চরকান্দা নামক স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা অবিলম্বে সেকেন্দার হত্যাকান্ডে জড়িত আতিয়ার রহমান বুলু মোল্লা,নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম,সম্্রাট মোল্লাসহ জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। মানববন্ধন চলাকালে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদসম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করে এবং বুলু মোল্লার ফাঁিস চাই,পরকীয়া প্রেমিকা হাফিজার ফাঁসি চাই সহ নানা শ্লোগান দেয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন নিহতের ভাই কবির উদ্দিন খোকন মোল্লা,ইউ,পি চেয়ারম্যান কাওসার ভ’ইয়া,সাবেক ইউ,পি চেয়ারম্যান ম,ম, ছিদ্দিক মিয়া,নিহতের চাচা সাবেক ইউ,পি সদস্য জমির উদ্দিন মোল্লা,সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার ইমারত হোসেন,ফারুক মিয়া,তোতা মাতুব্বর,হান্নান মাতুব্বর,আলীমুজ্জামান,হাবিবুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য যে,উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামের চাঞ্চল্যকর সেকেন্দার আলী হত্যাকান্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী বর্তমানে মামলাটির প্রধান আসামী। দীর্ঘ্য প্রায় ৮ মাস পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম,পরকীয়া প্রেমিক ও তার সন্তান সুকৌশলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের বিবরন তারা আদালতে স্বীকার করেছে। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ গত ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর উপজেলার চরকান্দা গ্রামের নির্মাণাধীন রেল লাইনের দক্ষিণ পার্শ্বে রাঘদার বিলে জাল পাততে গিয়ে স্থানীয় দেলোয়ার মোল্লা নামে জনৈক ব্যাক্তি অর্ধ কাদাযুক্ত পানিতে নিহতের মরদেহ দেখতে পান।খবর পেয়ে হাফিজা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখে তার স্বামী সেকেন্দার আলীর বলে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে প্রেরন করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম বাদী হয়ে পারিবারিক বিরোধ ও রেললাইনের অধিগ্রহনকৃত টাকার ভাগবাটোয়ার দ্বন্দে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। হত্যাকান্ডের ২ দিন পর ২৭ অক্টোবর আসামী কবির উদ্দিন খোকন মোল্যা ও খলিল মোল্লা সহ অজ্ঞাতনামা আরো আসামীদের সহযোগিতায় যে কোন সময় বাদীর স্বামী সেকেন্দার আলী মোল্যাকে হত্যা করে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানার মামলা নং- ২০, তাং- ২৭/১০/২০২০খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয় এবং মামলার তদন্তভার ভাঙ্গা থানার এসআই মোঃ আবুল কালাম আজাদের উপর অর্পণ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবুল কালাম আজাদ মামলাটি মূল রহস্য উ™ঘাটন করতে সক্ষম হন।এতে মামলার বাদী হাফিজা বেগমের স্বামী নিহত সেকেন্দারের সাথে স্থানীয় আতিয়ার রহমান ভুলু (৬৫) সু-স¤পর্ক ছিল এবং সেকান্দারের সাথে তার আপন বড় ভাই খোকন মোল্লা ও চাচাতো ভাই জমির মোল্লার সাথে রেলওয়ের অধিগ্রহনের আওতায় পড়া ২৭ শতাংশ জমির প্রাপ্ত টাকা ভাগ বন্টন নিয়ে বিরোধ ছিল। অপরদিকে গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আতিয়ার রহমান ভুলু (৬৫) এর সহিত নিহতের আপন বড় ভাই খোকন মোল্যার সাথে বিরোধ ছিল। হাফিজা বেগমের স্বামীর সাথে খোকন মোল্যার বিরোধের সুযোগ নিয়ে ভুলু মোল্লা পূর্ব হতে হাফিজার সাথে তার পরকীয়ার স¤পর্ককে কাজে লাগায়। বুলু মোল্লা পুঁজি করে শত্রæতা উদ্বারের জন্য খোকন মোল্লা ও জমির উদ্দিন মোল্লাকে ফাাঁসিয়ে দিয়ে এলাকায় তার আধিপত্যকে শক্তিশালী করার ফন্দি আটে। এদিকে নিহত সেকেন্দার আলী মোল্লা ঋনের জ¦ালে আবদ্ব হয়ে পড়ে। এজন্য আসামী আতিয়ার রহমান ভুলু হাফেজা বেগমকে পরামর্শ দেয় যে, তোর স্বামী তো অনেক লোকের কাছ থেকে সুদের উপরে লাখ লাখ টাকা নিছে। ঐ সুদের টাকার জন্য তোর স্বামীও বাড়ী থাকতে পারে না, তোকেও লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। অপরদিকে ভাসুর খোকন মোল্যাও রেলের টাকার ভাগ দেয় না। ঐ খোকন মোল্যাকে সায়েস্তাা করা দরকার। তার থেকে ভালো তোর অসুস্থ্য স্বামীরে মেরে লাশ ওদের বাড়ী কাছাকাছি বিলের মধ্যে ফালাই দিয়া ওগোরে ফাঁসাইয়া দেই। তাহলে তুই খোকনের কাছ থেকে রেলের টাকাও আদায় করতে পারবি, খোকন মোল্লাকেও সায়েস্তাা করতে পারবি। আমি সব সময় তোর পাশেই থাকবো এবং তোর সব কিছুর দেখাশুনার দায়িত্বও আমিই নিবো। তখন তুই শান্তিতে থাকতে পারবি। ভুলু মোল্লার কুমন্ত্রনায় হাফেজা তার ফাঁদে পা দেয়। সেই সুযোগে পরকীয়া প্রেমিক ভুলুর কথামত স্বামীকে হত্যার সিদ্বান্ত নেয়। এক পর্যায়ে সে পূর্ব পরিকল্পনামত রাতে সেকেন্দারকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে একটি পুকুর পাড়ে নিয়া যায়। সেখান থেকে পূর্ব হতে দাড়িয়ে থাকা প্রেমিক ভুলু মোল্যাও তার ছেলে সম্রাটকে নিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে সেকেন্দারকে হত্যার পর লাশ নৌকায় তুলে রাঘদার বিলের মধ্যে হাটু পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়।পরের দিন বিলের কচুরিপানার ভিতর সেকেন্দার আলী মোল্যার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সেকেন্দার আলীর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ভুলু মোল্লা সম্রাট মোল্লা, হোসাইন মোল্যা, হাফিজা বেগমের আচরন সন্দেহজনক হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা তারা স্বীকার করে।পরবর্তীতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। মামলা রুজু করার পর থেকেই বাদীর প্রেমিক ভুলু মোল্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকতাকে দিয়ে তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুলু মোল্যার প্ররোচনায় প্রভাবিত না হয়ে তার প্ররোচনাকে মামলার মূল সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার বিষয় স্বেচ্ছায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে গত শুক্রবার রাতে শাহমল্লুকদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদীনি হাফিজা বেগম ও তার ছেলে হোসাইন কে আটক করেন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •