Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ যাদের জমি নেই, ঘর নেই এমন ৬০০ পরিবারের ঠাঁই মিলেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার স্বপ্ননগর আবাসন এলাকায়। উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে ৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে নগরের সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ‘স্বপ্ননগর’ নামের বিশেষ একটি আবাসন এলাকা। তাই জমির সঙ্গে পাকা ঘর পেয়ে নতুন মাত্রায় এবারের ঈদ আনন্দ উপভোগ করার স্বপ্ন দেখছেন নতুন ঠিকানায় ঠাঁই পাওয়া পরিবারগুলো। ভিটে-বাড়ি শূন্য মানুষের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো হয়ে দাড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া ৬০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন ইউএনও তৌহিদ এলাহী।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গার ৬টি ইউনিয়নের আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে দু’টি ধাপে মুজিববর্ষের উপহার পেয়েছে ৬০০ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। প্রথম ধাপে ৩২০টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৮০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে এসব ঘরগুলি হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০টি ঘরকে কেন্দ্র করে এই ‘স্বপ্ননগর’ এলাকাটি তৈরী করা হচ্ছে। এ আবাসন এলাকায় গৃহ নির্মাণের পাশাপাশি তৈরী করা হচ্ছে মসজিদ, মন্দির, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, বাজার, খেলার মাঠ, ইদগাহ মাঠ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশুপার্ক, ইকো পার্ক ও সামাজিক বনায়ন। এছাড়াও সকল উপকারভোগীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ‘স্বপ্ননগর’ এলাকাটি ঘুরে সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধ লাল রঙের টিনের সেমিপাকা ঘরগুলো এলাকাকে আরও মহনীয় করে তুলেছে। দৃষ্টি কাড়া দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, বাথরুম ও স্টোর রুম। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বপ্নের বাড়িতে ইতিমধ্যে উপকারভোগী যারা উঠেছেন তারা তাদের সন্তানাদি নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘরঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরো প্রয়োজনীয় গুদামঘর। শিশুরা খেলাধুলা করছে। নারীরা নিজ নিজ ঘর গোছাতে ব্যস্ত। সবাই উৎফুল্ল, আনন্দিত। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সারাদিন মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করে নিজের বাড়িতে থাকতে পারবে এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দীর্ঘায়ু ও দোয়া কামনা করেন। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ হয়েছে ব্যতিক্রম ভাবে।
এ ব্যাপারে গোপালপুর ইউনিয়নের স্বপ্ননগর আবাসনের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমানের জানান, ‘চিরজীবন অন্যের জমিতে থেকে ঈদ করেছি। প্রায় ৭০ বছর পর নিজের জমি, নিজের ঘরে এবার ঈদ করবো। মৃত্যুর আগে এর থেকে পরম তৃপ্তি আর কি হতে পারে। প্রাণ খুলে দোয়া করি শেখ হাসিনার জন্য।’
এছাড়া পাশের বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩২২টি ঘর করা হয়েছে। এ উপজেলায় সম্পূর্ণ ঘরগুলি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। যে কয়টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে তারা সকলেই নিজের নতুন ঘরে প্রথম ঈদ করবেন।
স্বপ্ননগরে বসবাসকারী নূর জাহান বেগম নামে এক গৃহবধু জানান, ‘আমার স্বামী একজন ভ্যান চালক। আমাদের চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে আগে অন্যের বাড়িতে থাকতাম। পরের বাড়ি থাইকে ঈদের আনন্দ সেভাবে করতি পারতাম না। ছেলে-মেয়েরা প্রাণ খুলে হাসতে পারতো না, খেলতে পারতো না। এইবার সরকার আমাগে একটা ঘর দিছে। অনেক আনন্দে নিজের বাড়িতে ঈদ করবো।’ রিবা বেগম নামে অপর গৃহবধূ জানান, ‘মধুমতি নদীতে ৪ বার জায়গা জমি ও বাড়ি ঘর বিলীন
হয়ে গেছে। এরপর অন্যের বাড়ি থাকতাম। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নিজের সুন্দর পাকা দালানে বাস করতে পারবো, কোনদিন স্বপ্নও দেহি নাই।’

গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য তৈরি আলফাডাঙ্গা স্বপ্ননগরের নির্মাতা ইউএনও তৌহিদ এলাহী কালের কণ্ঠকে বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পূনর্বাসনের জন্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যার এই উপজেলায় ‘স্বপ্ননগর‘ নামে একটি আবাসন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে খাস খতিয়ানের জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পূনর্বাসনের জন্য দৃষ্টিনন্দন একটি করে ঘর তৈরি করে দিতে পেরেছি, এজন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আশা করি, ঘর পেয়ে এ জনগোষ্ঠির সামাজিক মর্যাদাসহ জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে।’

 


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •