Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ীঃ একদিকে সরকারের দেওয়া কঠোর লকডাউন, অন্যদিকে আগামীকাল রোববার (১ আগস্ট) থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলো সরকার। বিপাকে পড়ে কলকারখানার শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা দিয়েছে ঢাকার দিকে।

শনিবার (৩০জুলাই) সকাল থেকে রাজবাড়ী কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কে দেখা যায় যে যেমন ভাবে পারছে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। এ সময় দেখা যায় গণপরিবহন না থাকায় ব্যাটারি চালিত ভ্যান, মোটরসাইকেল, নসিমন, ট্রাক সহ একাধিক যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে যাচ্ছে যাত্রীরা।

তবে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে গত এক মাস যাবত দৌলদিয়া ঘাটে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিই হচ্ছে যাত্রীদের পারাপারের একমাত্র ভরসা।তবে ফেরি পারাপারের সময় করোনার ভয়ে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না যাত্রীরা। অনেক যাত্রীর মুখেই নেই মাস্ক।

কারখানা খোলার ঘোষণার পর পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে উঠছেন যাত্রীরা। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মাহেন্দ্রা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশায় করে ঘাটে আসছেন তারা।

এ সময় ঢাকামুখী যাত্রীরা জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে তাদের কারখানা খুলছে। এ জন্য ভোগান্তি সত্বেও ঢাকায় আসছেন। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে আসতে হচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে আটটি ফেরি চলাচল করছে। তবে ঘাটে পারের অপেক্ষায় কোনো গাড়ীর সিরিয়াল নেই।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, লকডাউনের কারণে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল করছে। সেই সুযোগে গত ২৩ জুলাই থেকেই শত শত যাত্রী পারাপার হচ্ছে এই রুটে।

করোনার সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এ বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্প-কারখানা।

এরমধ্যে গার্মেন্টসসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন মালিকরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।

এরপরই শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো।

এদিকে, শিল্প-কারখানা খোলার অনুমতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছে পোশাক শিল্প পরিবার তথা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •