Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপ-পরিচালক মাহবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফাইল সই করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে সচিব স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ, মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগিরা । এই কর্মকর্তা ফেব্রুযারি ২০২১ এ ফরিদপুরে যোগদান করার পর থেকে তার নিকট যে ফাইল সাক্ষর করাতে হলে বিভিন্ন অংকের টাকা গুনতে হয়। তা না হলে তিনি সে ফাইল ছাড়েন না। এছাড়াও তিনি ফরিদপুরে যোগদান করার পর থেকে কোন বাসায় না থেকে ফরিদপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার ও নার্সদের বিশ্রামাগারে রাত্রি যাবন করেন। যা সম্পুর্ন নিয়ম বর্হিভুত। যে প্রতিষ্ঠানে রোগী ও স্টাফ প্রায় শতভাগই নারী, সেখানে কিভাবে একজন ব্যাচেলার এতগুলো মাস কোন বাসায় না থেকে এই মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রাত্রি যাপন করেন প্রশ্ন অনেকের। এই কর্মকর্তার অনিয়মের স্বীকার ফরিদপুরের একটি বেসরকারী সংস্থা এসো জাতি গড়ি (এজাগ) এর নির্বাহী পরিচালক নাজমা বেগম জানান, আমরা এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অসহায় মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকি। এর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা ছোট অনুদান পাই। এই অনুদান পাওয়ার জন্য সকল কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়।

এই আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ ( উপ পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা) এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হয়। এবার আমার অফিস থেকে আবেদন করি কিন্তু এই কর্মকর্তা আমার আবেদনটি ফরওয়াডিং দিচ্ছেন না। কয়েকদিন অফিসে ঘোরাঘুরির পর জানতে পারলাম পাঁচ হাজার টাকা দিলে আমার আবেদনটি তিনি সই করবেন। টাকা ছাড়া ফাইল সই হবে না। তখন অনেক বলে কয়ে দুই হাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে ফাইল সই করাই। এরকম প্রতিটি ফাইল সই করতে দুই হাজার, তিন হাজার করে টাকা তিনি নিয়েছেন। আবেদন করলেই যে সে টাকা পাবো তার কোন নিশ্চয়তা নেই। অথচ আবাদেন পাঠাতেই তাকে টাকা দিতে হয়। আবার যদি অনুদান কেউ পায়, সে টাকা নিতেও তাকে দশ পার্সেন্ট টাকা দিতে হয় , নইলে তিনি বিল ভাউচারে সই করেন না। সরকার অসহায়দের সেবার জন্য আমাদের মত বিভিন্ন এনজিওকে এই অনুদান দিচ্ছে অথচ এরকম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে আমাদের এই সেবামূলক কাজ ব্যহত হচ্ছে। আমরা এর সমাধান চাই। আদর্শ পাঠাগার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ফয়সাল আলী বলেন, ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনার ডি ডি মাহবুবুল ইসলামের কাছে কোন ফাইল নিয়ে গেলে তা টাকা ছাড়া সই করেন না, বিশেষ করে ফাইলগুলো যদি অর্থনৈতিক বিষয় হয়। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করছি, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পুর্ব খাবাসপুর মহিলা উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভানেত্রী হীরুন্নাহার বেগম জানান, গত বছর আমি সকল কাগজপত্র জমা দিই কিন্তু অনুদান পাইনি। এবছর যখন কাগজপত্র জমা দিতে গেলাম তখন সুপার নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করে। আমার পায়ে অপারেশন করা হয়েছে, পাঁচতলা পর্যন্ত সিড়ি বেয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু বার বার তাদের অফিসে যেতে হয়েছে এ কাজে। অবশেষে সুপার আমাকে বলে চার হাজার টাকা দিতে হবে, না হলে স্যার ফাইলে সই করবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে সুপারের কাছে দুই হাজার পাঁচশত টাকা দিই।ডিক্রিরচর ডেভেলপম্যান্ট এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, আমি ২০২০-২১ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্ধ পাই , আমরা সেই বিল ভাউচার টাকার জন্য তিন মাস আটকে রেখে পরে ৭ হাজার টাকা দিয়ে বিল ভাউচার অনুমোদন করে। তিনমাস তার অফিসে যেতে যেতে আমি হয়রান। তিনি আরো দুটি এনজিওর বিল ভাউচার অনুমোদনে টাকা নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনার উপ পরিচালক মাহবুবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। কিন্তু সাংবাদিকদের জেরার মুখে অবশেষে তিনি অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন আমার অফিসের কোন কর্মচারী অর্থ লেনদেন করতে পারে, আমি জানিনা। এছাড়া মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রাত্রি যাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আমাদের অতিরিক্ত সচিব স্যারের অনুমতি নিয়েই ওখানে থাকি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে অতিরিক্ত সচিব মোঃ শরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার সাথে আমার কোন প্রকার কথা হয়নি। তাছাড়া কোন উপ পরিচালকের সাথে আমাদের যোগাযোগ করা হয় না। তিনি যা বলেছেন তা সম্পুর্ন মিথ্যা বলেছেন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •