Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো: আসাদ, সদর উপজেলা প্রতিনিধি, খুলনা : খুলনার বিভিন্ন আবাসিক এলাকার ফ্লাটবাসাগুলোতে দেহ ব্যবসায় জড়িত মোস্তাফিজুর রহমান নামক এক ব্যাক্তির উপর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপে মোস্তাফিজসহ একটি চক্রের কুকর্মের কথা ফাঁস করেন একজন ভুক্তভোগী নারী। জানা যায়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে সহজ সরল মেয়েদেরকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে অন্দরমহলে পাঠিয়ে দেহবিক্রি করতে বাধ্য করতেন মোস্তাফিজচক্র । চাকরির লোভে কুমিল্লা , চাঁদপুর, ঢাকা , বরিশাল থেকে আসা অল্পবয়সী নারীরাও রেহাই পায়নি এচক্রের হাত থেকে ।

এছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদেরকে দেহব্যাবসার কাজে নামানোর অভিযোগ পাওয়া যায় মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে। একাজে রাজি না হলে বন্ধ ঘরে আটকে রেখে করা হয় শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এসকল নারীদের ।

এমনই একজন ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার (প্রতিকী নাম)। চাঁদপুরের একটি অজোপাড়া গায়ে জন্ম তার। বাবা পেশায় একজন কৃষক। পরিবারে ভাইবোনের সংখ্যা বেশি এবং আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকায় সুযোগ হয়নি মাধ্যমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর। দারিদ্রের নির্মম কষাঘাতে পুরো পরিবার যখন নাজেহাল, ঠিক তখনই নাসরিন সিদ্ধান্ত নেয় উপার্জনের। ঢাকায় গিয়ে চাকরি নেন পোশাক উৎপাদন কারখানায়। সেখান থেকেই একব্যাক্তির মাধ্যমে পরিচয় হয় খুলনার মোস্তাফিজের সাথে। একপর্যায়ে উচ্চপদে মোটা অংকের বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে খুলনায় নিয়ে আসে এবং নিরালার একটি ফ্লাট বাসায় থাকার ব্যাবস্থা ও করে সে। সহযোগী আকাশ ও পিন্টুর সহযোগিতায় তাকে বিভিন্নভাবে দেহব্যবসার প্রস্তাব দেন তিনি। চাকরির জন্য ভারতে পাঠাতে চাইলে অসম্মতি জানায় নাসরিন। কোনোকিছুতেই রাজি না হওয়ায় ঘরে আটকে রেখে শারিরীক নির্যাতন করা হয় তাকে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অসামাজিক কার্যক্রমে বাধ্য করা হত বলে জানান তিনি।

এছাড়া একটি বিশেষ সুত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজ একাধিক বিবাহের পরও বিভিন্ন নারীদেরকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন আবাসিক ফ্লাটে রেখে দেহব্যাবসা পরিচালনা করে্ন । খুলনার বিভিন্ন হোটেলসহ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে নারী সরবরাহ করেন করেন তিনি। এসকল নারীদের মধ্যে একাংশ স্বেচ্ছায় জড়িত থাকলেও অধিকাংশই মতের বিরুদ্ধে একাজে লিপ্ত হন। এবিষয়ে মোস্তাফিজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে, তিনি অনুসন্ধান ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

শুধু মোস্তাফিজ নয়, এ শহরে শত-শত মোস্তাফিজই এ ব্যাবসার মাধ্যমে রাতারাতি বনে যাচ্ছে জিরো থেকে হিরো।প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকলেও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে দিনের পর দিন এসকল কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।নগরীর বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে এই শরীরবানিজ্য। ফলে একদিকে যেমন যুবসমাজের অবক্ষয় হচ্ছে, অপরদিকে খর্ব হচ্ছে নারীদের স্বাভাবিক জীবনব্যাবস্থা।

অতিশীঘ্রই এসকল কার্যক্রমের সাথে জড়িতদেরকে চিহ্নিত করে লাগাম না টানলে বিপথে যাবে যুবসমাজ, প্রশ্নবিদ্ধ হবে নারীকুল।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •