Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম চলছে জোড়াতালি দিয়ে। রয়েছে চিকিৎসক নার্স টেকনিশিয়ানসহ চিকিৎসা কর্মীর অভাবে।

গত ২০২১ সালের ২৫ মার্চ বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় প্রায় ৩ লক্ষাধিক জনবসতির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে।

তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যয়ে পড়েছে। গুরুতর কোন রোগীর সেবা তো দূরের কথা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষ লোকের বসবাস ৩ লক্ষ লোকের জন্য বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৮ জন চিকিৎসক এর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। ২৩ টি কর্মচারী পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৬ জন।

একটি এনালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও সেটিকে ব্যবহারের উপযোগী করা যায়নি জনবলের অভাবে বলেও জানা যায়৷ অপারেশন থিয়েটারটি স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকলেও তা জনবলের অভাবে ভুগছে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের পরতে হয় আরেক বিরম্বনায় ২০০৮ সালের জুন মাসের ৬ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি ৫০ কেভির একটি জেনারেটর প্রদান করা হলেও তা আজ পর্যন্ত চালু করা হয়নি। তবে জেনারেটরটি ইতিমধ্যে তার কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে মতামত অনেকের।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, ডাক্তার দেখাতে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। এতো রোগী দেখতে ডাক্তাররাও বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি করোনার টিকা চালু থাকায় অনেকে টিকা নেওয়ার আগে বা পরে ডাক্তার দেখাতে লাইনে দাঁড়ানোই চাপ পড়েছে বেশি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা আজকের পত্রিকাকে জানান, বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ পাওয়া যায় না। যারা তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে ফরিদপুর রাজবাড়ী রেফার্ড করা হয়। এখানকার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট থাকায় আমাদের পরতে ভোগান্তিতে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এক ব্যাক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আলট্রাসনো মেশিন না থাকায় বা নষ্ট থাকায় আমাদের বিভিন্ন ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হয় অনেক বেশি টাকায়। সেখানে তারা তাদের ইচ্ছামতো টাকা নেয় যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য জোর জুলুম হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতাল থাকতে যদি বাইরে থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষা করাবো তাহলে সরকারি হাসপাতাল থেকে আমাদের বালিয়াকান্দিবাসীর লাভ হলো কি? আমাদের মতো গরিব মানুষ যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণরূপে পায় এজন্য সরকারকারের কাছে দাবি দয়া করে আমাদের হাসপাতালের দিকে নজর দিন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নাসির উদ্দিন জানান, ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। জরুরী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও এক্সরে মেশিন সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসায় যে লক্ষ্যমাত্রা সেটি অর্জন করা আমাদের সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে বালিয়াকান্দিবাসীকে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা আমরা প্রদান করতে পারি।

রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জিল্লুল হাকিম বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •