Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সম্পূর্ণ অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ স্বতঃস্ফুর্ত ভোট গ্রহন শেষে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বে-সরকারীভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে বুধহাটা, দরগাহপুর, আশাশুনি সদর ও খাজরায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা, কুল্যা, বড়দল ও শ্রীউলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এবং শোভনালী, আনুলিয়া ও প্রতাপনগরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এ ভোট প্রহন। ভোট কেন্দ্রসহ সারা উপজেলা জুড়ে বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিকে দ্রæত নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রতি ইউনিয়নের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল। জনগনের জানমাল রক্ষায় ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যে কোন ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রশাসন ছিল কঠোর অবস্থানে। প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষ্যনীয়। সকল কেন্দ্র আলাদা সারিতে দাড়িয়ে নারী পুরুষ উৎসবমুখর পরিবেশে পছন্দের প্রতীকে ভোট প্রদান করেছেন। এবার দলীয় প্রতীক নৌকা, লাঙ্গল, হাতপাখা ও মশালের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আ’লীগের একাধিক প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও জামায়াত-বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না আসলেও কোথাও কোথাও তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। ভোটাররা পরিচ্ছন্ন ও সৎ ব্যক্তিকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করেন। একাধিক ভোটার স্বতঃস্ফুর্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট প্রদান করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বে-সরকারী ফলাফলে উপজেলার ১১ ইউপিতে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন- শোভনালীতে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক চশমা প্রতীক নিয়ে ৬৬৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শম্ভুচরণ মন্ডল পেয়েছেন ৫৩৪৩ ভোট। বুধহাটায় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল হক ডাবলু নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮৯৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আব্দুল হান্নান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৫২৫ ভোট। কুল্যায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওমর সাকী ফেরদৌস আনারস প্রতীক নিয়ে ১১৩৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৫৮৩ ভোট। দরগাহপুরে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ মিরাজ আলী নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৫৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী স.ম জমির উদ্দীন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৩৫৬ ভোট। বড়দলে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র সানা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৬৪৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মন্টু মোল্যা টেলিফোন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫৩০ ভোট। আশাশুনি সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতা এসএম হোসেনুজ্জামান হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮৮৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স.ম সেলিম রেজা মিলন চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৫৮৩ ভোট। শ্রীউলা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রভাষক দিপংকর বাছাড় দিপু আনারস প্রতীক নিয়ে ৮৯৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আবু হেনা সাকিল নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০১৮ ভোট। খাজরা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব এসএম শাহনেওয়াজ ডালিম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অহিদুল ইসলাম মোল্যা আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭২১৭ ভোট। আনুলিয়া ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস মোল্যা আনারস প্রতীক নিয়ে ৮২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগ নেতা শাহাবুদ্দীন সানা নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৬৩৮ ভোট। প্রতাপনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আবু দাউদ আনারস প্রতীক নিয়ে ৮৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রতাপনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ জাকির হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩২০২ ভোট। কাদাকাটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিপংকর কুমার সরকার দীপ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান মন্টু আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১২৪ ভোট। উল্লেখ্য, উপজেলার ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ৫৬ জন প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। যার মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ১১ জন, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক ৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত মশাল প্রতীক ১ জন ও বাকী ৩৮ জন আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •